Badrinath Dham Donation Theft Case

রামমন্দিরের পরে বদ্রীনাথ! প্রণামী তছরুপের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল, তদন্তের নির্দেশ দিল মন্দির কমিটি

শুক্রবার ভৈরব সেনা নামে একটি সংগঠন অভিযোগ তোলে, অযোধ্যার রাম মন্দিরের মতো বদ্রীনাথেও ভক্তদের দেওয়া প্রণামী তছরুপ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মন্দির কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৫:০১
Allegation of donation theft at Badrinath Dham, temple committee ordered inquiry

বদ্রীনাথ ধাম। —ফাইল চিত্র।

অযোধ্যার রাম মন্দিরের পরে বদ্রীনাথ ধামেও প্রণামী তছরুপের অভিযোগ উঠল। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বদ্রীনাথ কেদারনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি)। সমাজমাধ্যমে প্রণামী তছরুপ সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরে নড়েচড়ে বসে কমিটি। কমিটির সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী অনুসন্ধান কমিটি গড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের থেকেও এই অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার ভৈরব সেনা নামে একটি সংগঠন অভিযোগ তোলে, অযোধ্যার রাম মন্দিরের মতো বদ্রীনাথেও ভক্তদের দেওয়া প্রণামী তছরুপ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মন্দির কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব। যদিও দ্বিবেদী জানিয়েছেন, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব নন। অভিযুক্ত বিকেটিসি-তে নিযুক্ত এক সরকারি কর্মী। মন্দির কমিটির তিন প্রাক্তন চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব হিসাবে কাজ করেছিলেন অভিযুক্ত।

দ্বিবেদী এ-ও জানিয়েছেন, তদন্তে কারও দোষ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। বিকেটিসির সিইও সোহন সিংহ রঙ্গদ জানিয়েছেন, বদ্রীনাথ মন্দির চত্বরে বসানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘এখন পর্যন্ত যে ফুটেজ মিলেছে, তা ততটা স্বচ্ছ নয়। বিষয়টি যেহেতু সংবেদনশীল, তাই বিকেটিসির চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে।’’ তিনি এ-ও জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশ মেনে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান কমিটি তৈরির প্রস্তাব চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে। সেই কমিটি তৈরি হলে সব প্রমাণ খতিয়ে দেখা হবে। সব পক্ষের বক্তব্যও শোনা হবে। কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে ১৯৩৯ সালের বিকেটিসি আইন অনুসারে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে মন্দিরের এই ঘটনার সঙ্গে যেহেতু ভক্তদের বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে, তাই তা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়াতে বারণ করেছেন তিনি।

গত ৭ জুন প্রথম রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হলে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ জানান, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে। গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। অযোধ্যার রামমন্দিরে গত দু’বছরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর কয়েক কোটি টাকা লুট হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। রামমন্দিরের কর্মচারী (সেবাদার), এমনকি মন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সদস্য ও পদাধিকারীদের একাংশও এতে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা সিটের। গত ২৫ জুন আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়, যাঁরা সকলেই দানের টাকা গোনার কাজে যুক্ত ছিলেন।

Advertisement
আরও পড়ুন