‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূটনায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। কোচবিহারে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরুর পরে থেকেই রাজ্যে কত জন অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান মিলল, সেই প্রশ্নে ধারাবাহিক ভাবে বিজেপিকে নিশানা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস-সহ অন্যেরা। এই প্রেক্ষিতে রবিবার রাজ্যে দলের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচির উদ্বোধনে এসে কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন দাবি করলেন, ৫০ লক্ষের বেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা গিয়েছে! আসন্ন ভোটের দিকে তাকিয়ে প্রচারে ঝড় তুলতে এ দিন কোচবিহারের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানের কুলটি, পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা ও নদিয়ার দিগনগর থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু হয়েছে। বিজেপির নেতারা নারী নিরাপত্তা, শিল্পায়নের পরিস্থিতি-সহ নানা বিষয়ে তৃণমূলকে বিঁধেছেন। বিজেপিকে ‘উল্টো রথে ফিরতে হবে’ বলে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে আজ, সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি এবং কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের উপস্থিতিতে হাওড়ার আমতা থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু হওয়ার কথা। অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আরও তিনটি যাত্রা শুরু হবে বীরভূমের হাসন, উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি এবং উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে। শাহের এ দিন রাতেই কলকাতায় আসার কথা থাকলেও তিনি সোমবার সকালে আসছেন বলে বিজেপি সূত্রের খবর। তাই নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে রায়দিঘিতে তাঁর সভা শুরু হতে পারে।
তার আগে এ দিন কোচবিহারের যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বিজেপির সভাপতি নিতিন বলেছেন, “ভোটার তালিকা থেকে ৫০ লক্ষ অনুপ্রবেশকারীর নাম কাটা গিয়েছে, যাঁরা এখানকার মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছিলেন। আগামী দিনে আরও লক্ষ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে বার করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের চিন্তা না-করে অনুপ্রবেশকারীদের উপরে ভরসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ পাল্টা বলেছেন, “যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই মৃত, স্থানান্তরিত। বাকিদের মধ্যে অনেকে মতুয়া ও রাজবংশী। অনুপ্রবেশকারী বলছেন কী ভাবে?”
নদিয়ার সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-প্রশ্নে সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডা। ওই সভা থেকেই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার আবার বলেছেন, “যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করুন। আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।” গড়বেতার সভা থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরা রাজ্যে ‘আসল পরিবর্তনে’র ডাক দিয়েছেন। সভাস্থলে পশ্চিমবঙ্গের মনীষী, বিপ্লবীদের ছবিও দেখা গিয়েছে। সভায় এসে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কুর্মি আন্দোলনের নেতা ঝাড়গ্রামের রাজেশ মাহাতো। পশ্চিম বর্ধমানের সভা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী আর জি কর-কাণ্ড, সন্দেশখালির ঘটনার কথা উল্লেখ করে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি, সিন্ডিকেট এবং তোলাবাজির জন্য রাজ্য আজ শিল্পহীন বলেও তাঁর অভিযোগ। অন্নপূর্ণার সংযোজন, “রাজ্যে আমাদের সরকার হলে মহিলাদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।” সভায় ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ, সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়েরাও।
এরই মধ্যে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, “গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও দল যে কোনও কর্মসূচি নিতেই পারে। কিন্তু আমরা, বাঙালিরা রথযাত্রা করি আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে। ওঁদের মতো আমাদের ফাল্গুন-চৈত্রে রথ দেখার অভ্যাস নেই। আমাদের রথে দেব-দেবী থাকেন। বিজেপি নেতারা নিজেরাই রথে চড়েন। যাত্রা শেষে রথটা তৈরি রাখবেন। উল্টো রথে ফিরতে হবে।”