শবরীমালা মন্দির। — ফাইল চিত্র।
কেরলের শবরীমালা মন্দিরে ঋতুযোগ্য নারীদের প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করল কেন্দ্রীয় সরকার। ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, ২০১৮ সালে শীর্ষ আদালত তা খারিজ করে দিয়েছিল। কিন্তু এ দিন সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে কেন্দ্র জানিয়েছে, সমাজে পুরুষেরা উচ্চতর স্থানে রয়েছেন এবং মহিলারা নীচে, এমনটা ধরে নিয়েই ২০১৮ সালের রায়টি দেওয়া হয়েছিল।
শবরীমালা-সহ দেশের একাধিক ধর্মীয় স্থানে মহিলাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে একটি মামলার এ দিন শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চে। কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, এমন বহু মন্দির আছে যেখানে পুরুষদের প্রবেশাধিকার নেই।
সুপ্রিম কোর্ট যদিও নিজের পর্যবেক্ষণে বলেছে, মন্দির ও মঠগুলি যদি প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে একটি ধর্মের ভিতরেই বিভিন্ন গোষ্ঠী বা উপদলের ভিত্তিতে কড়াকড়ি শুরু করে, তা হলে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে হিন্দুধর্মের উপরে। এতে সমাজ ভাগ হয়ে যাবে। শবরীমালার ভক্তদের তরফে আইনজীবী সি এস বৈদ্যনাথন যুক্তি দেন, সংবিধানের ২৬(বি) ধারা ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলিকে নিজস্ব বিষয়গুলি পরিচালনার অধিকার দিয়েছে, এমনকি এ ক্ষেত্রে তা প্রাধান্য বিস্তার করছে ২৫(২)(বি) ধারার উপরেও, যা রাষ্ট্রকে প্রকাশ্য স্থানের হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির দরজা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। এটিও মামলাটির অন্যতম বিচার্য।