ত্বিশা শর্মা। গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। —ফাইল চিত্র।
স্বামী পেশায় আইনজীবী। শাশুড়ি অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। সেই বাড়িতেই গত সপ্তাহেই উদ্ধার হয় বধূর ঝুলন্ত দেহ। কী ভাবে মৃত্যু হল ৩৩ বছর বয়সি ত্বিশা শর্মার? সময় যত এগোচ্ছে, এই প্রশ্ন ততই জোরালো হয়ে উঠতে শুরু করেছে। মৃত্যুর আগে বন্ধুকে পাঠানো ত্বিশার কিছু মেসেজের স্ক্রিনশটও প্রকাশ্যে এসেছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। যা থেকে ইঙ্গিত মেলে, শ্বশুরবাড়িতে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কেন? সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
গত ১২ মে ভোপালের কাটরা হিল্স এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ। তার ঠিক পাঁচ দিন আগে, গত ৭ মে বন্ধুর সঙ্গে হোয়াট্সঅ্যাপে কথা হয় তাঁর। সেই চ্যাটের একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, সেখানে জীবনের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বন্ধুকে তিনি লেখেন, ‘‘বাড়িতে বসে থাকতে থাকতে আমার দুশ্চিন্তা বাড়ছে। আমি জীবনে কিছু করতে চাই। বিয়ে করলে নতুন পরিবার তৈরি হয় ঠিকই, কিন্তু তাই বলে নিজের জন্য কিছু করার ইচ্ছাকে থামিয়ে রাখা যায় না।’’
বিয়ে করা নিয়েও বন্ধুকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। বিয়ে করার সময়ে তাড়াহুড়ো না করে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ত্বিশা। তিনি লিখেছিলেন, ‘‘বিয়ে করতে হবে বলে করে ফেলিস না। ভেবেচিন্তে করিস। আপাতত আর কিছু বলছি না। পরে ফোন করব।’’ ত্বিশার এমন মেসেজ পেয়ে বন্ধুও তাঁকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। ত্বিশার কিছু হয়েছে কি না, তিনি ঠিক আছেন কি না, জানতে চেয়েছিলেন। বন্ধু লিখেছিলেন, ‘‘আশা করি তুই ঠিক আছিস। আমিও তোকে ভালবাসি। আমার তোকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে।’’ উত্তরে ত্বিশা লিখেছিলেন, ‘‘আমি ঠিক আছি। আসলে বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে। তোর কথা মনে পড়ে।’’ বধূর ইনস্টাগ্রামের একটি চ্যাটও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমি ফেঁসে গিয়েছি। তুই আর এতে ফাঁসিস না। এখন বেশি কথা বলতে পারছি না। ঠিক সময়ে ফোন করব।’’ সেখানেও বন্ধু উত্তর দিয়েছিলেন, ‘‘আমার তোকে নিয়ে চিন্তা হয়। আমি তোকে খুব ভালবাসি।’’
সেই ফোন আর যায়নি ত্বিশার বন্ধুর কাছে। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ত্বিশার বাপের বাড়িতে খবর যায়, মেয়ে মারা গিয়েছে। ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে রহস্য রয়েই গিয়েছে। ২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা ত্বিশার আলাপ হয় আইনজীবী সমর্থের সঙ্গে। একটি ডেটিং অ্যাপে আলাপ হয়েছিল তাঁদের। তার পরে গত বছরের ডিসেম্বরে বিয়ে করেন দু’জনে। জানা যাচ্ছে, এমবিএ পাশ করার পরে দিল্লির এক সংস্থায় কাজও করতেন ত্বিশা।
ত্বিশার মৃত্যুর পরে তাঁর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছে পরিবার। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠিত হয়েছে। তরুণীর স্বামী এবং শাশুড়ি উভয়ের বিরুদ্ধেই খুনের অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। দেহের নতুন করে ময়নাতদন্তের দাবি তুলেছে পরিবার।