—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
সুপ্রিম কোর্টে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) রায়ের ‘মডিফিকেশন পিটিশন’ দাখিল করেছে রাজ্য সরকার। তাতে বকেয়া ডিএ দিতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি মহলের চর্চা, নবান্ন কি শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, বোর্ড, কর্পোরেশন, পুরসভা, পঞ্চায়েত, অধিগৃহীত-পোষিত সংস্থাগুলির কর্মচারীদের বাদ দিয়েই বকেয়া ডিএ-র হিসেব কষতে চাইছে? এই অবস্থায় ১৩ মার্চ যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ, শিক্ষক সংগঠনগুলিকে নিয়ে সরকারি স্তরে ধর্মঘট ডেকেছে কো-অর্ডিনেশন কমিটি যৌথ মঞ্চ।
কর্মচারী সংগঠনগুলির কাছে বকেয়া ডিএ-র হিসাবের একটি নথি পৌঁছেছে। ১৯ ফেব্রুয়ারির সেই তালিকায় দেখানো রয়েছে, গ্রুপ-এ, বি, সি এবং ডি গোত্রের কতজন কর্মচারী এখন কর্মরত এবং কতজন পেনশনভোগী আছেন। সেই তালিকা অনুযায়ী, চারটি গ্রুপের কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৫৪ জন। পেনশনভোগীদের সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ ৭৪ হাজার। কিন্তু তালিকায় শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, বোর্ড, কর্পোরেশন, পুরসভা, পঞ্চায়েত, অধিগৃহীত-পোষিত সংস্থাগুলির কর্মচারীদের হিসাব দেখা যায়নি।
এখানেই প্রশ্ন তুলছে মামলাকারী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, ডিএ মামলা চলাকালীন, সুপ্রিম কোর্টে গ্রান্ট-ইন-এড (শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, বোর্ড, কর্পোরেশন, পুরসভা, পঞ্চায়েত, অধিগৃহীত-পোষিত) কর্মচারীদের কথা জানিয়েছিল এই সরকারই। অথচ তালিকায় ওই কর্মীদের হিসাব না থাকায় সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রশ্নের কোনও জবাব শনিবার রাত পর্যন্ত মেলেনি।
বকেয়া ডিএ নিয়ে মূল মামলাকারী সংগঠন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ়-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “গ্রান্ট-ইন-এড খাতে ১৮,৩৬৯ কোটি টাকা দিতে হবে, এ কথা রাজ্যই সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের ধরে মোট প্রায় ৪১,৭৭০ কোটি টাকা মেটানোর কথা বলেছিল রাজ্য। কিন্তু এ বার সরকারের নথি দেখে সন্দেহ হচ্ছে, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, বোর্ড, কর্পোরেশন, পুরসভা, পঞ্চায়েত, অধিগৃহীত-পোষিত সংস্থার কর্মচারীদের ডিএ-র আওতার বাইরে রাখতে চাওয়া হচ্ছে কি না!” তাঁর সংযোজন, “ভোটের আগে যাতে টাকা না দিতে হয়, তাই পূর্ণাঙ্গ বাজেটের দোহাই দিয়ে সময় কিনতে চাইছে নবান্ন। তা ছাড়া, এই সরকার ক্ষমতায় না ফিরলে তাদের দায়ও থাকবে না।” জাতীয়তাবাদী পেনশনার্স সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মনোজ চক্রবর্তীর কথায়, “ডিএ না-দিয়ে সর্বস্তরের কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বঞ্চিত করল এই সরকার। রাজ্যে সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী-সহ স্বশাসিত সংস্থার কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”