— গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
২০২৫-২৬ সালের আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে গোপনীয়তা ও শাসনব্যবস্থার দোহাই দিয়ে আরটিআই (তথ্যের অধিকার) আইনের আওতা থেকে কিছু অভ্যন্তরীণ নথি ও ড্রাফট রিপোর্ট বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬’ রিপোর্ট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সেখানেই রয়েছে ওই আরটিআই আইনের ‘পর্যালোচনা এবং সংশোধনের’ প্রস্তাব।
সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, খুব বেশি তথ্য প্রকাশ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে এটি আরটিআই-এর মূল উদ্দেশ্য বা স্বচ্ছতার বিরুদ্ধে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রক্ষা করার পক্ষে বলে দাবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের। যদিও তা মানতে রাজি নন, তথ্যের অধিকার আন্দোলন কর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এর ফলে তথ্য গোপন করে জনবিরোধী পদক্ষেপের পরিসর তৈরি করতে চাইছে কেন্দ্র।
তথ্যের আইন, ২০০৫-এর ধারা ২ (এফ) অনুযায়ী, সরকারি রেকর্ড, রিপোর্ট, মেমো এবং সার্কুলার ‘তথ্য’ হিসাবে গণ্য হয়, যা নাগরিকরা চাইতে পারেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইন সংশোধনের সুপারিশ করে অর্থ মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘আর্থিক বিষয়ক বিভাগ’ (ডিইএ) প্রকাশিত আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টের বক্তব্য, সরকারি কর্মকর্তা যাতে ভীতিহীনভাবে মতামত দিতে পারেন, তাই সব খসড়া বা ফাইলের নোট প্রকাশ না করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা দরকার। আরটিআই আইন গণতন্ত্রে জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, তবে প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতার সাথে সুশাসনের ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন বলে বলা হয়েছে রিপোর্টে।