Heatwave in India

দেশে বদলাচ্ছে তাপপ্রবাহের চরিত্র! ফাল্গুনেই ১৪টি শহরে পারদ ছুঁয়েছে ৪০ ডিগ্রি, ব্যতিক্রম নয় এ রাজ্যও

সাধারণত এপ্রিলের শেষে বা মে মাসের শুরুতে এ দেশে তাপপ্রবাহ দেখা যেত। গত কয়েক বছরে দেশের পশ্চিম এবং মধ্যভাগের বেশ কিছু জায়গায় এপ্রিলের শুরুতেই তাপপ্রবাহ হয়েছে। ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারির শেষে, মার্চের শুরুতেই পশ্চিম ভারতে বাড়মের, রাজকোট-সহ ১৪টি শহরে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৮:৫৪
গত কয়েক বছরে দেশে বেড়েছে তাপপ্রবাহ।

গত কয়েক বছরে দেশে বেড়েছে তাপপ্রবাহ। — ফাইল চিত্র।

এ দেশে তাপপ্রবাহের চরিত্র কি বদলাচ্ছে ক্রমশ? ফাল্গুন মাস এখনও শেষ হয়নি। ভরা বসন্তেই দেশের কয়েক জায়গায় তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক দশক আগে আবহাওয়ার পরিসংখ্যান দেখলে এ রকম উদাহরণ খুব একটা চোখে পড়ে না। ভারতীয় মৌসম ভবন (আইএমডি) বলছে, তাপপ্রবাহের ধরনও কিছু বদলেছে দেশে। তাদের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর দেশের কয়েক জায়গায় গত কয়েক বছরের তুলনায় আগেভাগেই কড়া নাড়তে পারে তাপপ্রবাহ। স্থায়ী হতে পারে দীর্ঘ সময়। তার প্রভাবে দীর্ঘ হতে পারে গ্রীষ্মও।

Advertisement

এ রাজ্যেও কি বদলেছে তাপপ্রবাহের ধরন? আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাসের মতে, এ রাজ্যেও চরম আবহাওয়ার দিন বাড়ছে। যেমন ঠান্ডায় কয়েক দিন খুব ঠান্ডা পড়ছে। গরমে খুব গরম, আবার বৃষ্টিও হচ্ছে সে রকম চরম। হবিবুরের মতে, পশ্চিমবঙ্গে টানা ১০০ বছরের আবহাওয়ার পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে দেখা যাবে গত ১০-১৫ বছরে এই চরম অবস্থা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হল জলবায়ুর পরিবর্তন। কোনও বছর হয়তো খুব গরম পড়ছে, কোনও বছর কম। যেমন, গত বছর রাজ্যে তাপপ্রবাহ খুব বেশি হয়নি। তার আগের বছর আবার সেই সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। হবিবুরের কথায়, এই তাপপ্রবাহের প্রকৃতি ‘ক্যাওটিক’ (বিশৃঙ্খল)।

আইএমডি বলছে, গত কয়েক বছরে আবহাওয়ার গতি এবং জলবায়ুর পরিসংখ্যান তারা পর্যবেক্ষণ করেছে। আর তা দেখেই তাদের মনে হয়েছে, দেশে তাপপ্রবাহের চরিত্র বদলেছে। কী কী বিষয় দেখে তারা সে কথা বলছে?

আগেভাগেই হাজির

সাধারণত এপ্রিলের শেষে বা মে মাসের শুরুতে এ দেশে তাপপ্রবাহ দেখা যেত। গত কয়েক বছরে দেশের পশ্চিম এবং মধ্যভাগের বেশ কিছু জায়গায় এপ্রিলের শুরুতেই তাপপ্রবাহ হয়েছে। ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারির শেষে, মার্চের শুরুতেই পশ্চিম ভারতে বাড়মের, রাজকোট-সহ ১৪টি শহরে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। তা দেখেই আবহবিদের মনে করছেন, এ বছর চৈত্রের শুরুতেই কিছু জায়গায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে তাপপ্রবাহ আগেভাগে শুরু হলেও তা চলতে পারে দীর্ঘ দিন।

রাতে গরম

আইএমডি বলছে, দেশের বেশির ভাগ অংশেই সূর্য ডুবলে তাপমাত্রা নেমে যেত। এর ফলে রাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরত। এখন সেই ছবিটা বদলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গোটা দেশে রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়েছে। ফলে গত কয়েক বছরে সারা দিন তীব্র গরমের পরে রাতেও সে ভাবে স্বস্তি মিলছে না।

প্রভাব উপকূলেও

দেশের মধ্যভাগে, যেখান থেকে সমুদ্র অনেক দূরে, সেখানেই সাধারণ তাপপ্রবাহ হত। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চরিত্রও বদলেছে। আইএমডি বলছে, দেশের উপকূলভাগে গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেখানকার বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকার কারণে অস্বস্তিও খুব বাড়ছে। মুম্বই-সহ পশ্চিম উপকূলের জায়গাগুলিতে এই বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন আবহবিদেরা। সেখানকার বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকার কারণে শরীরে ঘাম শুকোয় না। ফলে আরও বেশি গরমবোধ হয়। আবহবিদেরা এর জন্য সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন।

তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি

দেশে আবহাওয়ার পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের কয়েক জায়গাতেই সাধারণত তাপপ্রবাহ হত। রাজস্থান, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশে প্রতিবছরই হত তাপপ্রবাহ। এখন আর দেশের ওই অংশে সীমাবদ্ধ নেই তাপপ্রবাহ। দেশের পূর্ব, দক্ষিণ ভাগ ছাড়া পাহাড়ি এলাকাতেও তাপপ্রবাহ হয়েছে।

দীর্ঘতর

আবহাওয়া দফতর বলছে, গত কয়েক বছরে দেশে তাপপ্রবাহের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ২০২৪ সালে সংসদে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল যে, সে বছর দেশে ৫৫৪ দিন তাপপ্রবাহ হয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন এলাকা মিলিয়ে মোট ৫৫৪টি তাপপ্রবাহ হওয়ার সতর্কতা এসেছে। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা ছিল ২৩০।

আবহবিদেরা এর জন্য মূলত জলবায়ুর পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন। তবে পাশাপাশি মাটির আর্দ্রতা হ্রাস, বায়ুপ্রবাহের ধরনের বদলও অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তাপপ্রবাহ কাকে বলে?

সচরাচর কোনও এলাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে থাকলে এবং তা গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় ৫ ডিগ্রি বেশি হলে আবহবিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকে তাপপ্রবাহ বলা হয়। তবে এই শর্তগুলি পূরণ না হলেও তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অবস্থায় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলেও তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন