জলমগ্ন মুম্বই। ছবি: পিটিআই।
বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিত মুম্বইয়ের। গত ২৪ ঘণ্টায় বাণিজ্যনগরীতে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবারও মুম্বই শহর এবং শহরতলিতে আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সঙ্গে ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ও হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহন্মুম্বই পুরসভা জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ভান্ডুপ এবং সান্তাক্রুজ়ে (২৩৯ মিমি), তার পর রয়েছে পওয়াই (২৩৪), অন্ধেরী (২২৫ মিমি), পরল এবং মানখুর্দ (২২২ মিমি), মরোল (২১০ মিমি), শিওড়ী এবং ওয়াডালায় ২০৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, ৫ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে মুম্বই, পালঘর, ঠাণে এবং রায়গড়ে।
বুধবার রাত থেকে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়েছে মুম্বইয়ে। রাতভর বৃষ্টির জেরে রেল এবং সড়কপথ অনেক জায়গায় জলের নীচে চলে গিয়েছে। ফলে রেল এবং সড়ক পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। অন্ধেরী, নবী মুম্বই, কুর্লা পূর্ব, এসজি বার্ভে রোড, সিন্ধি সোসাইটি, চেম্হুর, কিংস সার্কল, গান্ধী মার্কেট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া দাদর স্টেশনে রেললাইন জলের নীচে চলে গিয়েছে। ফলে ট্রেন খুব ধীরগতিতে চলছে। পালঘরে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে স্কুল-কলেজগুলি বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। মুম্বই এবং সংলগ্ন অঞ্চলগুলি থেকে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর খবরও পাওয়া গিয়েছে। খারঘরে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। ভিবন্ডীতে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। ওয়াকেশ্বরে বৃষ্টিতে বাড়ি ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক প্রৌঢ়ের। নবী মুম্বইয়ে জলমগ্ন রাস্তায় দুই তরুণী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বর্ষা ঢুকে পড়েছে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতেও। দেশের অন্য অংশে বৃষ্টি হলেও উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির দেখা মিলছিল না। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সক্রিয় এবং ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ায় ওই অঞ্চলগুলিতে আগামী দিনে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন।