Mumbai Murder

‘মহিলাদের সামনে অপমান করেন!’ স্বীকারোক্তি মুম্বইয়ে ট্রেনে অধ্যাপককে কুপিয়ে খুনে অভিযুক্তের, কী ঘটেছিল?

জেরায় অভিযুক্ত ওমকার শিন্দে দাবি করেছেন, মহিলাদের সামনে তাঁকে ‘অপমান’ করেছিলেন ৩২ বছরের ওই অধ্যাপক। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাও দিয়েছিলেন। তা থেকেই বচসার সূত্রপাত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৫
(বাঁ দিকে) মুম্বইয়ে লোকাল ট্রেনে খুন হওয়া অধ্যাপক অলোক সিংহ। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া অভিযুক্তের ছবি (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মুম্বইয়ে লোকাল ট্রেনে খুন হওয়া অধ্যাপক অলোক সিংহ। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া অভিযুক্তের ছবি (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

সামান্য বচসাকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে মুম্বইয়ের মালাড স্টেশনে অধ্যাপক অলোক সিংহকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ঠিক কী ঘটেছিল, কেনই বা অধ্যাপককে খুন হতে হয়েছিল— সে সব জানা যায়নি। এ বার ধৃত নিজেই জানালেন সেই কারণ।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় অভিযুক্ত ওমকার শিন্দে দাবি করেছেন, মহিলাদের সামনে তাঁকে ‘অপমান’ করেছিলেন ৩২ বছরের ওই অধ্যাপক। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাও দিয়েছিলেন। তা থেকেই বচসার সূত্রপাত। তখনই রাগের মাথায় ওমকার ঠিক করে ফেলেন, ট্রেন থেকে নেমে ওই অধ্যাপককে ‘শিক্ষা’ দেবেন তিনি। সেইমতো স্টেশনে নেমে একটি ছোট কিন্তু ধারালো চিমটে জোগাড় করে ফেলেন ওমকার। তবে অধ্যাপককে একেবারে খুন করার কোনও অভিপ্রায় ছিল না ওমকারের। ভেবেছিলেন, বার কয়েক কুপিয়ে চম্পট দেবেন। কিন্তু পরিকল্পনামাফিক কাজ হয়নি। পেটে কয়েক বার কোপাতেই লুটিয়ে পড়েন ওই অধ্যাপক।

ঘটনাটি ঘটে ২৪ জানুয়ারি, শনিবার। ধৃত ওমকারের দাবি, ট্রেনের দরজার মুখে দুই মহিলা দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের ঠিক পিছনেই ছিলেন অধ্যাপক। নামার জন্য তাঁদের ঠেলে এগোনোর চেষ্টা করতেই অধ্যাপক তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বলেন, ‘‘দেখতে পাচ্ছেন না, সামনে মহিলারা দাঁড়িয়ে রয়েছেন?’’ এই কথায় সামনের মহিলারাও ঘুরে ওমকারের দিকে তাকান। যারপরনাই অপমানিত হন ওমকার। তিনিও পাল্টা কথা কাটাকাটি শুরু করে দেন। বচসা বাড়তে বাড়তে স্টেশন চলে আসে। দু’জনেই প্ল্যাটফর্মে নামেন। এর পরেই অতর্কিতে ছোট অস্ত্রটি বার করে অলোকের পেটে গেঁথে দেন অভিযুক্ত। রক্তাক্ত অবস্থায় অলোককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয় তাঁর। নিহত অলোক ভিলে পার্লের একটি কলেজের গণিতের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে সহকর্মী ও ছাত্রমহলে। অন্য দিকে, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ওমকারকে মালাড স্টেশন চত্বর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে হাজির করানোর পর আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে তাঁকে।

Advertisement
আরও পড়ুন