ইউজিসি-র নয়া বিধিতে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দেশজোড়া বিতর্কের আবহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্ণবৈষম্য রোধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রণীত নয়া বিধির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আদালত অবিলম্বে হস্তক্ষেপ না করলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, আরও বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে সমাজে। এই যুক্তি দেখিয়ে আপাতত ইউজিসি-র নির্দেশিকা পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে আদালত। এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ২০১২ সালের পুরনো বিধিই বহাল থাকবে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্য রোধ করতে ইউজিসি-র আনা ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন্স, ২০২৬’ বিধিমালা আপাতত স্থগিত রাখা হবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কি আমরা এমন এক সমাজের দিকে এগোচ্ছি, যা উল্টে জাতিগত বৈষম্যের পথে ফিরে যাচ্ছে? বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আমরা এত দিন যা যা অর্জন করেছি, সব কি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে?’’ দুই বিচারপতির বেঞ্চের আরও পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় আদালত যদি অবিলম্বে হস্তক্ষেপ না করে, তা হলে বিপজ্জনক পরিণতি হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষাঙ্গনের মতো আপাত প্রগতিশীল পরিবেশে এ ধরনের বিধি কার্যকর হলে তা সমাজকে আরও বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিধির ভাষাগত অস্পষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। দুই বিচারপতির নির্দেশ, বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করে ওই বিধি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। তত দিন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত ২০১২ সালের বিধিটিই বহাল থাকবে।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ইউজিসি-র তরফে শিক্ষাঙ্গনে অসাম্য দূরীকরণের নতুন বিধিমালা প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইকুয়াল অপারচুনিটি সেন্টার’ গঠন করতে হবে। পাশাপাশি, থাকবে ‘ইকুইটি কমিটি’ও, যার সদস্য হবেন তফসিলি জাতি, জনজাতি, অনগ্রসর শ্রেণি, প্রতিবন্ধী এবং মহিলারা। পড়ুয়াদের সুবিধার্থে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৪ ঘণ্টার ইকুইটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ-ও জানানো হয়, নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে। এমনকি, ইউজিসি-র স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হতে পারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। এই বিধি প্রকাশ হতেই চাপানউতর শুরু হয় নানা মহলে। অসংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁদের দাবি, এই বিধি পক্ষপাতদুষ্ট। এ হেন বিধি কার্যকর হলে শিক্ষাঙ্গনের সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হবে এবং উচ্চবর্ণের পড়ুয়ারা বৈষম্যের শিকার হবেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। প্রশ্ন ওঠে, অসংরক্ষিত শ্রেণিভুক্তদের সঙ্গে কোনও ধরনের বৈষম্য হলে কেন তাঁরা অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবেন না? তা ছাড়া, নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অভিযুক্তদের আত্মপক্ষসমর্থনের সুযোগ থাকবে না। ফলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেও উচ্চবর্ণের পড়ুয়াদের নিশানা করা হতে পারে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই আবহেই এ বার ইউজিসি-র বিধির উপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।