ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত।
ভুল হয়ে গিয়েছে। অনেক বড় ভুল করে ফেলেছেন। আত্মীয়কে রাত ৩টের সময় ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন যুবক। তার ঠিক চার ঘণ্টা পর ওই যুবক, তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং অশোকের মায়ের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। উত্তরপ্রদেশের সহারনপুরে একই পরিবারের পাঁচ জনের রহস্যমৃত্যুতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, যে যুবক ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, তাঁর নাম অশোক রাঠী। ওই আত্মীয়ের দাবি, ‘‘সকালে ঘুম থেকে উঠেই অশোকের একটি ভয়েস মেসেজ পেয়েছিলাম। সেটি শোনার পরই বুঝতে পেরেছিলাম কিছু একটা হয়েছে। তবে এত বড় ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তা কল্পনাতেও আসেনি।’’ ওই আত্মীয়ের আরও দাবি, ভয়েস মেসেজ পাওয়ার পরই অশোকের বাড়িতে যান। ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেক ডাকাডাকির পরেও কোনও সাড়াশব্দ মেলেনি। শেষে পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঢুকতেই শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য প্রকাশ্যে আসে। ঘরে এ দিক ও দিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে পাঁচ জনের দেহ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে। মৃতদের মধ্যে অশোক, তাঁর স্ত্রী অঞ্জিতা, দুই সন্তান কার্তিক, দেব এবং অশোকের মা বিদ্যাপতি রয়েছেন। আত্মীয়ের প্রশ্ন তা হলে কি এই ভুলের কথাই ভয়েস মেসেজে পাঠিয়েছিলেন অশোক? গোটা পরিবারকে অশোকই কি খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন? তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে পর পর গুলি চলল, অথচ আশপাশের কেউই গুলি চলার শব্দ পেলেন না? পাঁচ জনের মৃত্যুতে এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অশোক জমি জরিপের কাজ করতেন। বেশ কিছু দিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তার জেরেই কি খুন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অশোকের ঘর থেকে তিনটি দেশি বন্দুক উদ্ধার হয়েছে।