গুরুগ্রামে প্রেমিকের নির্যাতনের শিকার ত্রিপুরার তরুণী। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
হরিয়ানার গুরুগ্রামে লিভ-ইন সঙ্গীর বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুললেন ত্রিপুরার তরুণী। ত্রিপুরার বাসিন্দা হলেও পড়াশোনার সূত্রে তিনি গুরুগ্রামে থাকেন। সেখানেই অনলাইন মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তরুণীর। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল দু’জনের মধ্যে। এমনকি, তাঁরা বিয়ের বিষয়েও ভাবনাচিন্তা করছিলেন। প্রেমিকের সঙ্গে এক বাড়িতেই থাকতেন তরুণী। অভিযোগ, বিয়ে নিয়ে আলোচনার সময় তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তখনই তরুণীকে হেনস্থা করেন অভিযুক্ত।
গুরুতর জখম অবস্থায় গুরুগ্রামের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দু’জনেরই বয়স ১৯ বছর। অভিযোগ, টানা তিন দিন তরুণীর উপর অত্যাচার চলেছে। তাঁর যৌনাঙ্গে স্যানিটাইজ়ার ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাথা ঠুকে দেওয়া হয়েছে দেওয়ালে। এমনকি, মাথায় কাচের বোতলও ভেঙেছেন অভিযুক্ত। তরুণীর অভিযোগ, ছুরি নিয়ে তাঁর দিকে তেড়ে এসেছিলেন যুবক। তাঁকে খুনের চেষ্টা করেছিলেন। যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত যুবক দিল্লির বাসিন্দা। তিনিও পড়াশোনার সূত্রেই গুরুগ্রামে থাকছিলেন। অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের আলাপ হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কয়েক মাস পর থেকেই তাঁরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। দুই পরিবারের মধ্যেও বিয়ে নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু যুবক বিয়েতে আগ্রহী ছিলেন না। সেই কারণেই বচসার সূত্রপাত। মেডিক্যাল পরীক্ষায় তরুণীর শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। গুরুগ্রামের ডিসিপি হিতেশ যাদব জানিয়েছেন, তরুণীকে প্রথমে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে এমস হয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় যুবকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা তরুণীর মা জানিয়েছেন, তাঁর কন্যা যে অভিযুক্তের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন, সে খবর তাঁরা জানতেন না। যুবকের বিরুদ্ধে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন এবং কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। যুবককে আপাতত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্ত চলছে।