এই ধরনের খবরের ক্ষেত্রে আসল ছবি প্রকাশে আইনি বাধা থাকে। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
জম্মু ও কাশ্মীরে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি থেকে ২০০ মিটার দূরত্বেই ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। দোষীর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের তরফে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। নিহতের দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলার গালওয়ানপোড়া গ্রামের ওই কিশোরী শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল। রবিবার সকালে বাড়ির কাছের মাঠ থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। বুদগামের এসএসপি হরিপ্রসাদ কেকে জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ মাঠে নিখোঁজ কিশোরীর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। জায়গাটি তার বাড়ি থেকে ২০০ মিটার দূরে। যাবতীয় মেডিক্যাল এবং আইনি নিয়ম পালন করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুনের ইঙ্গিত মিলেছে।
এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তৈরি করেছে কাশ্মীর পুলিশ। সম্ভাব্য সকল দিক তারা খতিয়ে দেখছে। পুলিশের তরফে গ্রামবাসীদের স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, শনিবার বিকেল ৪টে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই কিশোরী। ধর্মীয় ক্লাসে গিয়েছিল, তাই তার সঙ্গে কোরানও ছিল। এক গ্রামবাসীর কথায়, ‘‘এলাকায় এত বাড়িঘর থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে ও নিখোঁজ হয়ে গেল, আমাদের মাথায় ঢুকছিল না। খুনিকে অবিলম্বে ধরতে হবে। শাস্তি দিতে হবে। আমরা মেয়েটার জন্য বিচার চাই।’’ কিশোরীর সঙ্গে থাকা কোরানটিও তার দেহের পাশেই পড়েছিল বলে খবর।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। ঘটনাটিকে তিনি ‘মর্মান্তিক এবং বেদনাদায়ক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। কিশোরীর পরিবারের পাশে থাকবে কাশ্মীর সরকার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে।