পেট্রল এবং ডিজ়েলের দাম আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। —প্রতীকী চিত্র।
জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে। শনিবারের পর ফের পেট্রল এবং ডিজ়েলের দাম বাড়ল দেশ জুড়ে। দিল্লিতে আড়াই টাকারও বেশি বেড়ে পেট্রলের দাম সেঞ্চুরি করে ফেলেছে। ডিজ়েলের দামও সেঞ্চুরির প্রায় দোরগোড়ায়।
সোমবার দিল্লিতে পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে ২.৬১ টাকা এবং ডিজ়েলের দাম প্রতি লিটারে ২.৭১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের রাজধানী শহরে পেট্রলের নতুন দাম ১০২.১২ টাকা। ডিজ়েল সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫.২০ টাকায়।
কলকাতাতেও পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম বেড়েছে। লিটার প্রতি ২.৮৭ টাকা বেড়ে শহরে পেট্রলের নতুন দাম হয়েছে ১১৩.৫১ টাকা। লিটার প্রতি ২.৮০ টাকা বেড়ে ডিজ়েলের দাম কলকাতায় হয়েছে ৯৯.৮২ টাকা। এ ছাড়া, মুম্বইয়ে এক লিটার পেট্রল পাওয়া যাচ্ছে ১১১.২১ টাকায়, দাম বেড়েছে ২.৭২ টাকা। চেন্নাইয়ে ২.৪৬ টাকা বৃদ্ধির পর এক লিটার পেট্রলের নতুন দাম ১০৭.৭৭ টাকা। মুম্বইয়ে ডিজ়েলের দাম বেড়েছে ২.৮১ টাকা। ৯৭.৮৩ টাকায় এক লিটার ডিজ়েল সেখানে পাওয়া যাচ্ছে। চেন্নাইয়ে ডিজ়েলের দাম ২.৫৭ টাকা বেড়ে প্রতি লিটারের নতুন দাম হয়েছে ৯৯.৫৫ টাকা।
জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ি চালানো বা পরিবহণের খরচই বাড়ে না, সার্বিক জীবনযাপনেই তার প্রভাব পড়ে। কারণ, পরিবহণের সঙ্গে যাপনের বাকি দিকগুলিও সম্পর্কযুক্ত। ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় জ্বালানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুধ, রুটির দাম বেড়ে গিয়েছে।
গত ১৫ মে সারা দেশে এক ধাক্কায় লিটার প্রতি তিন টাকা বেড়ে গিয়েছিল পেট্রলের দাম। তার পর ১৯ মে আবার দাম বাড়ে। আরও ৯০ পয়সা করে পেট্রলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তার পর ২৩ মে, শনিবার ফের ৮৭ পয়সা মূল্য বৃদ্ধি হয়। সোমবারের মূল্যবৃদ্ধির পর দেশে গত ১০ দিনে সাত টাকারও বেশি মহার্ঘ হয়ে গেল পেট্রল।
আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতির উপর সারা বিশ্বের জ্বালানির দামের ওঠাপড়া নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই মুহূর্তে অপরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই আবহে দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার সুরক্ষিত রাখতে আগামী এক বছর সোনা না-কেনার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
পশ্চিম এশিয়ার হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। ভারতকেও এই জ্বালানি বাইরে থেকে কিনতে হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করার পর থেকে হরমুজ়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাধা পাচ্ছে পণ্যবাহী জাহাজ। তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। ভারতে তেল সরবরাহকারী সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড, হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের মতো সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, দীর্ঘ দিন তারা বেশি দামে জ্বালানি কিনেও দেশের বাজারে দাম স্বাভাবিক রেখেছিল। এর ফলে দিনে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা তাদের ক্ষতি হচ্ছিল। ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, পেট্রল বা ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধি করা ছাড়া এখন উপায় নেই।
শনিবার মূল্যবৃদ্ধির পর ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, দেশে পেট্রল বা ডিজ়েলের সার্বিক কোনও ঘাটতি নেই। কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয় ভাবে দাম বাড়ছে এবং তা সাময়িক। আঞ্চলিক চাহিদা এবং সরবরাহের সামঞ্জস্য না থাকায় দাম বাড়ছে বলে দাবি করেছিল দেশের সবচেয়ে বড় তেল সংস্থা।