(বাঁ দিকে) কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ভোট বাড়ল আরও একটি। বিরোধী শিবিরের কেউ নেতৃত্বে চাইছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, কেউ চাইছেন ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনকে। কিন্তু জোটের নেতৃত্বের জায়গায় রাহুলকে বসানো নিয়ে আপত্তি ক্রমশ বাড়ছে ‘ইন্ডিয়া’য়।
বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতৃত্বে থাকা উচিত তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনের। এমনটাই দাবি স্ট্যালিনপুত্র উদয়নিধির। তাঁর দাবি, অন্য রাজ্যের নেতারাও চাইছেন বিজেপিবিরোধী লড়াইয়ে নেতৃত্বের জন্য এগিয়ে আসুন স্ট্যালিন।
শনিবার চেন্নাইয়ের এক সভায় বক্তৃতা করছিলেন তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি। সেখানেই এই মন্তব্য করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মতো তামিলনাড়ুতেও সামনে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেখানে ‘ইন্ডিয়া’র দুই শরিক— ডিএমকে এবং কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা এখনও হয়ে ওঠেনি। এমনকি আদৌ আসন সমঝোতা হবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে স্ট্যালিনপুত্রের এমন মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
উদয়নিধির বক্তব্য, তাঁর বাবা রাজনীতি এবং রাজ্যশাসন উভয় ক্ষেত্রেই উদাহরণ তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্যের নেতারাও এখন আমাদের নেতা (এমকে স্ট্যালিন)-কে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন।” অনেকের মতে, তামিলনাড়ুর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম শরিক কংগ্রেসকে চাপে রাখতেই এই মন্তব্য করেছেন স্ট্যালিন।
বস্তুত, ‘ইন্ডিয়া’র ব্যাটন কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে যেমন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে, তেমনই উঠে এসেছে স্ট্যালিনের নামও। সম্প্রতি শিবসেনা (উদ্ধব) তাদের মুখপত্রে এই দু’জনের কথা তুলে ধরেছে। মুখপত্রের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘ইন্ডিয়া’-কে অভিন্ন দিশা ও নেতৃত্ব নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। সে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হোন বা স্ট্যালিন কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তি, যিনি জাতীয় সঙ্কট সামলাতে পারবেন।
রবিবার একই সুর শোনা গিয়েছে বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ারের গলাতেও। তিনিও মমতাকে বিরোধী জোটের ‘মুখ’ হিসাবে দেখতে চান। একই সঙ্গে স্ট্যালিন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ বা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। কংগ্রেসের অস্বস্তি বৃদ্ধি করে বলেছিলেন, “নেতৃত্বের বিষয়টি এই আঞ্চলিক দলের প্রধানদের সামলাতে দেওয়া উচিত রাহুলের।”
সামনে লোকসভা নির্বাচন নেই। তার পরেও বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র মুখ বেছে নেওয়া ঘিরে এই আলোচনা কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, কংগ্রেস তথা রাহুলকে চাপে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাচক্রে, রবিবারই স্ট্যালিনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে কংগ্রস নেতা কেসি বেণুগোপালের। প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক হয়েছে বলে তামিলনাড়ু কংগ্রেস সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, আসন বোঝাপড়ার বিষয়েই ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।