দিল্লির বিস্ফোরণস্থল। ছবি: পিটিআই।
দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে নয়া তথ্য উঠে এল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে। তদন্তকারী এক সূত্রের দাবি, কোথায় হামলা করা হবে, তা নিয়েই দলের অন্দরে মতভেদ তৈরি হয়েছিল। একদল চাইছিল, দেশের সাধারণ মানুষের যেন কোনও ক্ষতি না হয়। তারা চাইছিল, হামলা জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে সীমিত থাকুক। নিরাপত্তাবাহিনীর উপরে হামলার পক্ষে ছিল ওই দল।
সূত্রের দাবি, দিল্লি বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত তথা চিকিৎসক উমর উন নবি-সহ দলের একাংশ আবার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেনি। উমর চেয়েছিলেন কাশ্মীরের বাইরে হামলা করতে। এমন হাই-প্রোফাইল ঠিকানায় হামলা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল যার প্রভাব আন্তর্জাতিক স্তরে পড়ত। ওই সূত্রের দাবি, তাই দেশের বড় শহরগুলিতে এক ইহুদি কফি সংস্থার বিভিন্ন আউটলেটে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়। ধৃতদের জেরা করে এমনই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। আর এখান থেকেই তাঁদের সন্দেহ, গাজ়ায় ইজ়রায়েলের হামলার ‘বদলা’ নিতে চেয়েছিল ‘ডক্টরস মডিউল’।
সূত্রের খবর, বিস্ফোরণের সাত দিন পর জাসির ওয়ানি নামে এক কাশ্মীরিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। জাসিরের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ড্রোনকে হামলাকারী অস্ত্রে বদলে দিয়ে হামাসের ধাঁচে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্তে এটাও উঠে এসেছে যে, ধৃত অভিযুক্তেরা আনসার গজবত-উল-হিন্দ নামে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, ওই কফি সংস্থার আউটলেটগুলিতে হামলা শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমিত ছিল, না কি রেকি করে ভাল ভাবে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লা মেট্রোর সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অনেকে। ওই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে হামলাকারী উমর উন নবিও।