Private Buses

কলকাতা–শহরতলিতে কমছে বেসরকারি বাস, ভাড়া বিতর্কে মুখোমুখি মালিক ও যাত্রীরা, প্রশ্নের মুখে পরিবহণ দফতর

২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় দীর্ঘ লকডাউনে বেসরকারি বাস পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারের তরফে উল্লেখযোগ্য কোনও পুনরুজ্জীবনমূলক উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৭
In Kolkata and its subuns, the number of private buses is decreasing, owners and passengers are at loggerheads over fare disputes

কমছে বেসরকারি বাসের সংখ্যা। —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কলকাতা ও শহরতলি জুড়ে বছরের পর বছর পরিষেবা দেওয়া একের পর এক বেসরকারি বাস রুট থেকে উঠে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। শহরের ভিতরে ও কলকাতা থেকে শহরতলির দিকে চলাচল করা ৭৯, ৭৯সি, ৭৫, ৮৩, ৮৯, এসডি–৪, ৫২, ৫৩, ৫৭, ৫৮, ৬১, ৬৩— এই সব রুটে এক সময় একঝাঁক বাস চলত। কিন্তু বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি বাসই রাস্তায় নামছে বলে দাবি বেসরকারি বাসমালিকদের। একই চিত্র হুগলি জেলাতেও। সেখানে ১ থেকে ১২ নম্বর রুটে কার্যত কোনও বাস নেই। ৩ নম্বর রুটে যেখানে এক সময় শতাধিক বাস চলত, সেখানে এখন একটিও নেই বলে অভিযোগ।

Advertisement

এই পরিস্থিতির জন্য মূলত দু’টি কারণকে দায়ী করছেন বাসমালিকেরা। তাঁদের দাবি, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় দীর্ঘ লকডাউনে বেসরকারি বাস পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারের তরফে উল্লেখযোগ্য কোনও পুনরুজ্জীবনমূলক উদ্যোগ দেখা যায়নি। পাশাপাশি ২০১৮ সালের পর থেকে কলকাতা ও রাজ্যে বাসভাড়া বাড়েনি। ডিজ়েল, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মীদের মজুরি বেড়েছে, অথচ ভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় পরিষেবা চালানো ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠছে বলে তাঁদের বক্তব্য। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই বাস ও মিনিবাসের বিজ্ঞানভিত্তিক ভাড়া বৃদ্ধি জরুরি।

তাঁর মতে, ভারতের মধ্যে সবচেয়ে কম ভাড়ায় বাস চলে এই রাজ্যে। ভাড়া না বাড়ালে ভবিষ্যতে বেসরকারি বাস দূরবিন দিয়ে খুঁজতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ আরও বিপাকে পড়বেন, কারণ, তখন তাঁদের বেশি ভাড়া দিয়ে অটো বা টোটোর উপর নির্ভর করতে হবে। বাস যেহেতু গণপরিবহণ, তাই তাকে বাঁচাতে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে নিত্যযাত্রীদের একাংশ এই দাবিকে একতরফা বলে মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি ভাবে ভাড়া বাড়ানোর অনুমতি না থাকলেও অনেক বেসরকারি বাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে। আগের মতো বাসে ভাড়ার তালিকাও টাঙানো থাকে না। ফলে যাত্রী স্বার্থ সুরক্ষিত না হলে শুধু বাস কমে যাওয়ার যুক্তিতে মালিকদের দাবি মেনে নেওয়া যায় না বলেই মত যাত্রীদের।

Advertisement
আরও পড়ুন