৬৯ দিনের মতো অশোধিত তেল ও ৪৫ দিনের এলপিজি মজুত আছে দেশে! হিসাব দিয়ে মোদীর মন্ত্রী বললেন, আতঙ্কিত হবেন না

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংযমী হওয়ার বার্তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১৮:৪২
Oil Minister Hardeep Singh Puri said that no supply issue in India

অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজি-র কোনও খামতি নেই ভারতে! আবার এক বার আশ্বাস্ত করলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। তিনি জানান, জ্বালানি সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই। দেশে কত দিনের অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজি আপাতত মজুত রয়েছে, তার হিসাবও দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংযমী হওয়ার বার্তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি অদূর ভবিষ্যতে দেশে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেবে? সেই ‘বিভ্রান্তি’ দূর করতে সোমবারই সরকারের তরফে দেশের জ্বালানি মজুত রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। এ বার সেই বিষয়ে আশ্বস্ত করলেন হরদীপ।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে দেশে এলপিজি উৎপাদনে জোর দিয়েছে সরকার। বর্তমানে দৈনিক ৫৪ হাজার টন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে ভারতে। তার পরেই হরদীপ বলেন, ‘‘এলপিজি সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই। দেশে ৬৯ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি আর ৪৫ দিনের মতো এলপিজি মজুত রয়েছে।’’

প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন হরদীপ। তিনি এ-ও জানান, মোদী যা বলেছেন, সেটাকে সতর্কবার্তা হিসাবে গণ্য করা উচিত। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ কমানোর ‘পদক্ষেপ’ নিয়ে ভাবতে শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রকের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে সোমবার আধিকারিকেরা জানান, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব ভারতের উপর যাতে কম পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সরকার পদক্ষেপ করেছে। পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্মসচিব বলেন, ‘‘ভারতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, এলপিজি, পেট্রল, ডিজ়েল রয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতে যে কোনও ধরনের সঙ্কট এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।’’

সম্প্রতি পর পর দু’দিন জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে দেশবাসীকে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘বর্তমান সময়ে পেট্রল, ডিজ়েল, গ্যাস— এ সব জিনিস অত্যন্ত সংযমী হয়ে ব্যবহার করতে হবে। যে সব জ্বালানি পণ্য আমরা বিদেশ থেকে আমদানি করি, সেগুলি যেটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। এতে বিদেশি মুদ্রারও সাশ্রয় হবে এবং যুদ্ধের সঙ্কটের বিরূপ প্রভাবকেও কমানো যাবে।” তাঁর এই আহ্বান নিয়ে চলছে রাজনৈতিক তরজা। সেই আবহে দেশের জ্বালানি ভান্ডারে কত কী মজুত রয়েছে, তার ধারণা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

Advertisement
আরও পড়ুন