বান্দি গ্রামে পাক গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি। — নিজস্ব চিত্র।
‘সিঁদুর’ অভিযানের পরে এক বছর কেটে গিয়েছে। কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো এখনও ভয়ে। দিনশেষে অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক ঘিরে ধরে কাশ্মীরের বারামুলা জেলার বান্দি গ্রামকে। পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে এই গ্রামটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল গত বছর। নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে বিশ কিলোমিটার দূরত্বে বাস করা পরিবারগুলোর মনে সেই ক্ষত এখনও টাটকা।
মহম্মদ আশরাফ শেখ এবং মহম্মদ আনওয়ার শেখ, দুই ভাইয়েরই এখনও ওই রাতের কথা মনে আছে। পাকিস্তানি গোলা এসে পড়েছিল তাঁদের বাড়ির সামনে। দেওয়ালের একটা অংশে চলটা খসা এখনও। জানলার ফাটলটা সারানো হয়নি। ছাদের একাংশ পলিথিন দিয়ে ঢাকা। সরকার থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি পরিবারকে। কিন্তু ঘরবাড়ি বাসযোগ্য করতে গিয়েই সেই টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। আশরাফ শেখ বলেন, ‘‘ওই টাকা দিয়ে ঘরের ছাদ সারিয়েছি। দেওয়ালগুলো ঠিক করেছি। কিন্তু এই ভয় কে সারাবে?’’
গ্রামের শিশুরা আজ স্কুলে গিয়েছে। ছেলেরা খেতে কাজ করতে গিয়েছে। মেয়েরা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু ভয়, সেটাও যেন থেকে থেকে গিয়েছে। আশরাফের মেয়ে নিশত আরা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। কিশোরী বলে, ‘‘ওই রকম রাতের অভিজ্ঞতা আগে কখনও হয়নি। রাত ১১টা থেকে পরের দিন সকাল ৭টা পর্যন্ত গোলাবর্ষণ চলেছে। আমরা সারা রাত জেগে। কেঁদেছি আর প্রার্থনা করে গিয়েছি। ভেবেছিলাম মরেই যাব।’’ নিশত আরও বলে, ‘‘ঘরবাড়ি কাঁপছিল। বাইরে থেকে মানুষের আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছিলাম। এক দিকে বাড়ির বাচ্চাদের সামলাচ্ছিলাম, অন্য দিকে প্রমাদ গুনছিলাম, পরের গোলাটা না আমাদের বাড়িতে এসে পড়ে।’’
আশরাফ-নিশাতদের মতোই বান্দি গ্রামের বাকি মানুষেরা আতঙ্কের সঙ্গে সমঝোতা করে দিনযাপন করে যাচ্ছেন। তাঁদের কথায়, ‘‘আমরা শান্তি চাই। বিলাসবহুল জীবন চাইছি না। শুধু চাই, আমাদের বাচ্চারা যেন শান্তিতে ঘুমোতে পারে।’’