পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। —ফাইল চিত্র।
ভারতের বিরুদ্ধে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। এ বারেও নয়াদিল্লির সঙ্গে সংঘাতের কারণ হিসাবে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন তিনি। এই চুক্তির লঙ্ঘনকে কার্যত পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
রবিবার পাকিস্তানের ‘এআরওয়াই নিউজ়’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “জল আমাদের জাতীয় সুরক্ষারই অংশবিশেষ। যদি আমাদের মনে হয় যে, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা হলে আমরা ভারতের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধের পথে হাঁটব।” নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে শাহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভার এই সদস্য জানান, পাকিস্তান তীব্র জলসঙ্কটে ভুগছে। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি থাকা সত্ত্বেও জলের প্রবাহ আটকে দেওয়া বা গতিপথ পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদ। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলেই পাকিস্তান উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে বলে জানিয়েছেন আসিফ।
২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে হামলার পরে সিন্ধু জলবণ্টনচুক্তি স্থগিত করেছিল ভারত। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছিলেন, রক্ত এবং জল একই সঙ্গে বইতে পারে না। ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু চুক্তি সই হয়েছিল। তা ভারত স্থগিত করার পর থেকেই একাধিক অভিযোগ করে এসেছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের বিরুদ্ধে ‘নালিশ’ করেছে। কিন্তু লাভ হয়নি। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির মধ্যে পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতীর জল ভারতের প্রাপ্য। পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তার জলে পাকিস্তানেরও অধিকার রয়েছে। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসাবে এই চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত।
এই আবহে সম্প্রতি দেশের জলশক্তি বিষয়কমন্ত্রী সিআর পাতিল ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধুর জল প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তার পরেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যুদ্ধের হুঁশিয়ারিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।