—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ভোটার তালিকায় এসআইআর-এর পরে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল হারে ভোট পড়েছিল। একই ছবি দেখা গেল অসম, কেরল, পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনে।
বৃহস্পতিবার দুই রাজ্য অসম, কেরল ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ছিল। অসম, পুদুচেরিতে বিধানসভা ভোটের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসে সর্বোচ্চ হারে ভোট পড়ল। কেরলেও পাঁচ বছর আগের বিধানসভা ভোটের তুলনায় অনেক বেশি হারে ভোট পড়েছে। রাজনীতিকদের মতে, এসআইআর-এর ফলে মানুষের মধ্যে ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে বলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এসআইআর-এ কাঠখড় পুড়িয়ে নাম তোলার পরে মানুষের মনে হচ্ছে, এত কষ্ট করে যখন ভোটার তালিকায় নাম ধরে রাখতে হল, তখন ভোটটাও দেওয়া উচিত।
পশ্চিমবঙ্গের মতোই বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কেরল, পুদুচেরিতে এসআইআর বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন হয়েছিল। অসমে এসআর বা ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভোটগ্রহণ শেষের পরে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অসমে ৮৫.৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। অতীতে কখনও অসমে এত হারে ভোট পড়েনি। এর আগে অসমে সর্বোচ্চ ভোটের হার ছিল ৮৪.৬৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে। পুদুচেরিতে ভোট পড়েছে ৮৯.৮৩ শতাংশ। সেটাও রেকর্ড। কারণ, এর আগে পুদুচেরিতে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল ২০১১-তে, ৮৬.১৯ শতাংশ। কেরলেও ৭৮.০৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। পাঁচ বছর আগের বিধানসভা নির্বাচনে কেরলে ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। কমিশন সূত্রের দাবি, বিরোধীরা দোষারোপ করলেও এই ভোটের হার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রকাশ।
তিনটি নির্বাচনেই পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ভোটের হার বেশি। অসমে মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিপুল হারে ভোট পড়ছে। কমিশন জানিয়েছে, এই প্রথম ১০০ শতাংশ বুথে ‘লাইভ-ওয়েবকাস্টিং’ করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনাররা সারাদিন সেদিকে নজর রেখেছেন। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রিসাইডিং অফিসাররা কমিশনের নিজস্ব পোর্টালে চূড়ান্তভোটগ্রহণের সংখ্যা জানিয়ে তার পরে বুথ ছেড়েছেন।