এআই-এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। —ফাইল চিত্র।
আইনি প্রক্রিয়া এবং বিচারব্যবস্থার অন্দরেও ঢুকে পড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)! তা দিয়ে তৈরি ভুয়ো দৃষ্টান্তের সাপেক্ষে শুনানি হচ্ছে, রায় দিচ্ছেন বিচারক। সম্প্রতি ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইবুনালের (এনসিএলটি) একটি রায়ের কথা শুনে আইনে এআই-এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগ, একটি মামলায় এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ভুয়ো কিছু দৃষ্টান্তের উপর ভিত্তি করে রায় দিয়েছে এনসিএলটি। এ বিষয়ে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে, জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আইনি প্রক্রিয়ায় এআই-এর ব্যবহার নিয়ে নানা মহলেই উদ্বেগ রয়েছে। এ ধরনের ভুয়ো আইনি নজিরের উপর নির্ভর করে দেওয়া সিদ্ধান্ত আদতে টিকবে না এবং তা বাতিল করা হবে বলে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। কারণ, তাকে ‘আইনের চোখে দেখা সিদ্ধান্ত’ বলা যাবে না। ‘এসেল ইনফ্রাপ্রজেক্টস’-এর দেউলিয়া সংক্রান্ত মামলায় এনসিএলটি-র রায়টিকে বাতিল করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আরাঢের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় অস্তিত্বহীন, ভুয়ো এবং কাল্পনিক তথ্যসূত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। তা তৈরি করা হয় এআই-এর সাহায্যে।
এ ক্ষেত্রে আইনজীবীই অসদাচরণ করেছেন বলে মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট। কারণ, তিনিই এআই-কে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা তথ্যসূত্র ব্যবহার করেছেন। বিচারপতিদের বক্তব্য, ‘‘ভাল করে যাচাই না-করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি আইনি নজির উপস্থাপন, উদ্ধৃত বা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে জ়িরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। কোনও আইনজীবী যদি এই ধরনের তথ্য আদালতে উদ্ধৃত করেন, তা তাঁর পেশাগত অসদাচরণের শামিল। একই ভাবে, কোনও বিচারক যদি রায় দেওয়ার সময় এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের উপর নির্ভর করেন, তা-ও তাঁর গুরুতর বিচ্যুতি। এই ধরনের সিদ্ধান্ত বাতিল বলে গণ্য হবে।’’
আইনে এআই-এর ব্যবহার বিচারব্যবস্থার পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করে, মত সুপ্রিম কোর্টের। বিচারপতিদের কথায়, ‘‘সিদ্ধান্ত গ্রহণে সততা বজায় রাখা অপরিহার্য। আইনজীবী এবং বিচারক, উভয়ের জন্যই বলছি, এই ধরনের উপাদানের ব্যবহার বা তার উপর নির্ভর করায় জ়িরো টলারেন্স নীতি নিতে হবে।’’