Right to Vote

ভোটদান মৌলিক অধিকার নয়! অবস্থান স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট, সাংবিধানিক এবং আইনি ব্যাখ্যাও জানাল শীর্ষ আদালত

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ভোটদান এবং ভোটে লড়ার অধিকার— দু’টিই স্বতন্ত্র অধিকার। সাংবিধানিক ভাবে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী এই অধিকার রক্ষিত হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২২
ভোটাধিকার এবং ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার কোনও মৌলিক অধিকার নয়, বলল সুপ্রিম কোর্ট।

ভোটাধিকার এবং ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার কোনও মৌলিক অধিকার নয়, বলল সুপ্রিম কোর্ট। —ফাইল চিত্র।

ভোটাধিকার কোনও মৌলিক অধিকার নয়। তা স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ভোট দেওয়ার অধিকার বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার কখনওই নিরঙ্কুশ কোনও অধিকার নয়। বরং, এগুলি একটি বিধিবদ্ধ অধিকার, যা সংশ্লিষ্ট আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রযোজ্য।

Advertisement

রাজস্থানের এক সমবায়ের নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। গত শুক্রবার বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। সেখানেই দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, ভোট দেওয়ার অধিকার এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার— দু’টিই স্বতন্ত্র অধিকার। সাংবিধানিক ভাবে নয়, বরং বিধিবদ্ধ কিছু বিধান (আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত নিয়ম) দ্বারা এই অধিকারগুলি নিশ্চিত করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট এ-ও জানিয়েছে, এই অধিকারগুলি নিরঙ্কুশ নয়। আইনের নির্ধারিত শর্তাবলীর আওতায় রয়েছে এই অধিকারগুলি।

দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “ভোটারধিকার বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার— দু’টির কোনওটিই মৌলিক অধিকার নয় এবং তা আগে থেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত। এগুলি সম্পূর্ণ বিধিবদ্ধ অধিকার। আইনে যতটা বলা রয়েছে, তার মধ্যেই এই অধিকারগুলি সীমিত।”

রাজস্থানের ‘ডিস্ট্রিক্ট মিল্ক প্রোডিউসার্‌স’ কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন’ নিজেদের পরিচালন সমিতির নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু উপআইন (নিজস্ব আইন) চালু করেছিল। সেখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাওয়া প্রার্থীদের জন্য কিছু যোগ্যতার মাপকাঠি স্থির করা হয়েছিল। প্রথমে রাজস্থান হাই কোর্টে এই মামলাটি চলছিল। হাই কোর্ট ওই উপআইনগুলিকে বাতিল করে দেয়। তার পরে মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজস্থানের সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী এই ধরনের সমস্যার নিষ্পত্তি করার একটি ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। সে ক্ষেত্রে হাই কোর্ট ওই যোগ্যতার মাপকাঠিগুলিকে ‘অযোগ্য’ বলে বাতিল করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেই মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ এ-ও জানিয়েছে, ওই উপআইনগুলি শুধুমাত্র সদস্যদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত যোগ্যতার মাপকাঠি স্থির করেছিল। এগুলির মাধ্যমে ভোটাধিকারকে কোনও ভাবেই সীমিত করা হয়নি। এই অবস্থায় হাই কোর্টের রায় বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ‘ডিস্ট্রিক্ট মিল্ক প্রোডিউসার্‌স’ কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন’-এর ওই নিজস্ব আইনগুলির বৈধতা বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত।

Advertisement
আরও পড়ুন