সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: পিটিআই।
সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের ‘সাইন ডাই’ সমাপ্তি (কোনও নিদ্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময় উল্লেখ না করে মুলতুবি) হচ্ছে না। সরকারি সূত্রপ উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, সম্ভবত এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আবার সংসদের অধিবেশন বসতে পারে। সে কারণেই এমন পদক্ষেপ।
পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরির বিধানসভা ভোটের আগে কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের এমন পদক্ষেপ? প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় পর্বের প্রধান আলোচ্যসূচিতে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ (লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের আইন) সংশোধন এবং সীমারেখা কমিশন বিল (লোকসভা ও বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত বিল) প্রবর্তন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
কেন্দ্রের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২৮শে জানুয়ারি শুরু হয়ে ২রা এপ্রিল পর্যন্ত দু’টি পর্যায়ে বাজেট অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল। সেই মতো বৃহস্পতিবার ‘সাইন ডাই’ সমাপ্তি হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক সূত্রের খবর, অধিবেশন স্থগিতের সময় ও তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। প্রসঙ্গত, মাত্র আড়াই বছর আগে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে মোদী সরকার ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করেছিল। তাতে লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের বন্দোবস্ত থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। কারণ আইনে বলা ছিল, জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই আসন সংরক্ষিত হবে। সেই অনুযায়ী ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনেও মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর সম্ভব হওয়া নয়।
আড়াই বছর পরে মোদী সরকার এখন নিজেরই আইনে সংশোধন করে জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের শর্ত তুলে দিতে চাইছে। যাতে আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন ও তার পরে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন থেকেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে সদর্থক বার্তা দেওয়া যায়। কিন্তু তার জন্য আইনের পাশাপাশি সংবিধানের ৩৬৮(২) অনুচ্ছেদও সংশোধন করতে হবে। মুশকিল হল, তার জন্য বিজেপির কাছে লোকসভা ও রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এ জন্য শরিকদের সঙ্গে বিরোধীদেরওসমর্থন প্রয়োজন। অন্য দিকে, মোদী সরকার ইতিমধ্যেই বার্তা দিয়েছে, ২০১১-র জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস হবে। তার ফলে লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮১৬ হবে। এর মধ্যে ২৭২টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হবে। কিন্তু লোকসভার মোট আসনের সঙ্গে এখন কোনও রাজ্যের আসনের যে অনুপাত রয়েছে, লোকসভার আসন বেড়ে গেলেও সেই অনুপাত বজায় থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র,। সেই উদ্দেশ্যেই আসছে সীমারেখা কমিশন বিল।