AAP Drama in Delhi

শুক্রবার পর্যন্ত তাঁর বাড়িতেই থাকতেন কেজরী, রাঘবের পদে তাঁকেই বসান, সেই সাংসদও এ বার বিজেপি-তে, আপে নাটক!

আপের রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে এই নেতা ছিলেন ২০২২ সাল থেকে। কিছু দিন আগে রাঘবের সঙ্গে দলের সংঘাত প্রকট হওয়ার পর কেজরী দলীয় পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেন। সেই পদ যাঁকে দেওয়া হয়েছিল, তিনিও দল ছেড়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৩
দলের ভাঙনে চিন্তায় আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল।

দলের ভাঙনে চিন্তায় আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল। —ফাইল চিত্র।

দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির সর্বময় নেতা অরবিন্দ কেজরীবাল বড় ধাক্কা খেয়েছেন শুক্রবার। রাঘব চড্ঢা বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন বটে, তবে তাঁর দলত্যাগ প্রত্যাশিতই ছিল। রাঘবের সঙ্গে আর যাঁরা হাত মিলিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে আরও বড় ধাক্কা খেয়েছেন কেজরী। শুক্রবার দিনভর দিল্লির রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে নাটক চলেছে। যে সাংসদকে কেজরী রাঘবের পদ দিয়ে দিয়েছিলেন, যাঁর বাড়িতে এক বছরেরও বেশি সময় আশ্রয় নিয়েছিলেন সপরিবার, সেই অশোক মিত্তলও শেষ মুহূর্তে কেজরীর হাত ছেড়ে দেন। শুক্রবার অশোকের বাড়ি থেকে কেজরী সরকারি বাংলোয় উঠে যান। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাঘবের পাশে বসে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন অশোক। তাঁরা একসঙ্গে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন।

Advertisement

আপের রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে অশোক ছিলেন ২০২২ সাল থেকে। কিছু দিন আগে রাঘবের সঙ্গে সংঘাত প্রকট হওয়ার পর কেজরী রাজ্যসভার উপদলনেতার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেন। সেই পদে নিযুক্ত করা হয় অশোককে। কিন্তু অশোকও বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। শুক্রবার যে সাংবাদিক বৈঠক করে রাঘব আপ ত্যাগের কথা ঘোষণা করেন, সেখানে তাঁর পাশে ছিলেন অশোক নিজে। এ ছাড়া, আপের আর এক রাজ্যসভার সাংসদ সন্দীপ পাঠকও ছিলেন। মোট সাত জন সাংসদ আপ ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন শুক্রবার।

রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে অশোক ৫ ফিরোজ় শাহ রোডের সরকারি বাংলোটি পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন কেজরী। তার পর থেকে পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে অশোকের সেই বাড়িতেই তিনি থাকতেন। এক বছরের বেশি সময় ওই বাড়িতে কেজরীরা ছিলেন। আপ বর্তমানে একটি জাতীয় দল। যে কোনও জাতীয় দলের প্রধানকে কেন্দ্রের তরফে একটি সরকারি বাংলো দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেজরীর জন্য দিল্লির লোধি এস্টেটে সেই বাংলো দিয়েছে সরকার। কৌতূহলের বিষয় হল, শুক্রবারই পরিবার নিয়ে সরকারি সেই বাংলোয় থাকতে যান দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর এক বছরের আশ্রয়দাতা অশোক আপ ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন। কেজরী কি জানতেন এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা? অশোকের দলবদলের খবর কি আগেই পেয়েছিলেন তিনি? জল্পনা রয়েছে। কেজরীর সমর্থকেরা কেউ কেউ দাবি করছেন, সবচেয়ে বড় ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন এই অশোকই।

অশোক, রাঘব, সন্দীপ ছাড়া শুক্রবার বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন স্বাতী মালিওয়াল, ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংহ, রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রম সাহনি। এঁদের মধ্যে স্বাতীর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসেই। কেজরীর এক ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। তবে বাকিদের দলত্যাগ একরকম অপ্রত্যাশিত ছিল। রাজ্যসভায় আপের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ১০। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য বিজেপি-তে চলে যাওয়ায় রাঘবদের দলত্যাগবিরোধী আইনের কোপে পড়তে হবে না। সূত্রের খবর, দলের অন্দরে বিরোধ মেটাতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংসদদের বৈঠকে ডেকেছিলেন কেজরী। কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়ে ওঠেনি। তার আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে রাঘবেরা দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করে দেন।

Advertisement
আরও পড়ুন