অরবিন্দ কেজরীবালের আম আদমি পার্টি ত্যাগ করলেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চড্ঢা। সঙ্গে আরও দুই আপ সাংসদকে নিয়ে শুক্রবার এই ঘোষণা করেছেন তিনি। ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংহও আপ ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। রাঘব জানিয়েছেন, রাজ্যসভায় আপের দুই তৃতীয়াংশ সাংসদ বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন।
কিছু দিন আগে থেকেই আপের সঙ্গে রাঘবের অন্দরের সংঘাত প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। রাঘবকে পদচ্যুত করেছিল দল। রাজ্যসভার উপদলনেতার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরই জল্পনা ছিল, রাঘব বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। কেন্দ্রের শাসকদলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও শোনা গিয়েছিল। শুক্রবার দিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার কথা রাঘব নিজেই ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভায় আপের আরও দুই সাংসদ সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তল। তাঁরাও কেজরীর হাত ছাড়ছেন।
আরও পড়ুন:
চড্ঢাদের সঙ্গে আর কারা বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন? হরভজন ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন রাজ্যসভার আপ সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহনির মতো নেতারা।
চড্ঢা বলেন, ‘‘আমরা রাজ্যসভায় আপের
দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য ভারতীয় সংবিধানের বিধান মেনে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার
সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’এই মুহূর্তে রাজ্যসভায় আপের সাংসদ
সংখ্যা ১০। তাঁদের অধিকাংশই পঞ্জাবের। এর মধ্যে থেকে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ বিজেপি-তে চলে গেলে রাজ্যসভায় আপের প্রতিনিধিত্ব
করার জন্য দুই-তিন জনের বেশি সাংসদ অবশিষ্ট থাকবেন না। এর ফলে পঞ্জাবে আপের আরও কিছুটা শক্তিক্ষয় হল বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? ব্যাখ্যাও দিয়েছেন রাঘব। জানিয়েছেন, যে দলটিকে তিনি নিজের রক্ত আর ঘাম দিয়েছিলেন, সেই দল তার নীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। রাঘবের কথায়, ‘‘যে আপ-কে আমি নিজের রক্ত আর ঘাম দিয়ে লালন করেছি, নিজের যৌবনের ১৫ বছর দিয়েছি, সেই দল নিজেদের নীতি, মূল্যবোধ থেকে সরে গিয়েছে। এখন এই দল দেশের স্বার্থে কাজ করে না। বরং ব্যক্তিগত সুবিধা লাভের জন্য কাজ করে। গত কয়েক বছরে আমার বার বার মনে হয়েছে, আমি ভুল দলে রয়েছি। তাই আজ আমরা আপ থেকে সরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করলাম এবং মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।’’
রাঘবদের আপ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই কেজরী সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। একটিই লাইন লিখেছেন তিনি— ‘‘বিজেপি আবার পঞ্জাবের মানুষকে ঠকাল।’’