Advertisement
E-Paper

মেয়েকে ভর্তি নিচ্ছে না স্কুল, প্রতিবাদে স্কুলে শৌচালয়ের প্যান নিয়ে হাজির বাবা! নেটমাধ্যমে ছড়াতেই ফাঁস হল আসল সত্য

মেয়েদের ভর্তি না করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর যে কারণ দেখিয়ে আসছে সেটি হল শৌচাগারের অভাব। স্থানীয় এক বাসিন্দা শৌচাগারের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর নাবালিকা কন্যাকে ভর্তি করতে রাজি হননি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩৮

ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।

সাইকেলে ক্যারিয়ারে বাঁধা শৌচাগারের প্যান। সেই সাইকেল সমেত স্কুলের গেট দিয়ে সটান ঢুকে পড়লেন এক ব্যক্তি। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হাতজোড় করে মিনতি করতে লাগলেন, তাঁর মেয়েকে ভর্তি নেওয়ার জন্য। স্কুল কর্তৃপক্ষকে অসহায় বাবার আবেদন, “স্যর, দয়া করে এই শৌচাগারের প্যানটি নিন। বদলে আমার মেয়েকে ভর্তি করে নিন।” অদ্ভুত এক ঘটনার সাক্ষী রইল উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার ওয়াড়ি এলাকায় অবস্থিত ঝিঙ্কু লাল ত্রিবেণী রাম চৌধরী ইন্টার কলেজ। অভিযোগ, ৬৭ বছর ধরে কোনও ছাত্রীকে ভর্তি নেওয়া হয়নি সেখানে।

মেয়েদের ভর্তি না করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর যে কারণ দেখিয়ে আসছে সেটি হল শৌচাগারের অভাব। স্থানীয় বাসিন্দা ওই ব্যক্তি শৌচাগারের সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করা সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ নাবালিকাকে ভর্তি করতে রাজি হননি। বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও কোনও সাড়া না পেয়ে নাবালিকার বাবা হতাশ হয়ে ফিরে যান। ঘটনাটি আরও বেশি করে উদ্বেগজনক কারণ, এই নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে কোনও সরকারি আদেশ নেই। কয়েক দশক ধরে স্কুল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিয়ম বহাল রয়েছে এখানে। সরকারি নথি থেকে জানা যায় যে, স্কুলটি ১৯৫৭ সালে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য স্বীকৃতি লাভ করেছিল। আইনত, প্রতিষ্ঠানটিতে মেয়েদের ভর্তি হতে না দেওয়ার কোনও বিধান নেই।

ঘটনাটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনরোষ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীদের দাবি, শৌচাগারের অভাব কেবল একটি অজুহাত। তাঁদের অভিযোগ, স্কুল ম্যানেজার কাছাকাছি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে ছাত্রীদের সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে নিরুৎসাহিত করছেন। এর ফলে তারা অতিরিক্ত বেতন দিয়ে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছে। অভিভাবকেরা অনেকেই বেসরকারি স্কুলের ফি দিতে পারেন না। ফলে মেয়েদের পড়াশোনা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। ঘটনাটি জনসমক্ষে আসার পর শিক্ষা বিভাগ হস্তক্ষেপ করেছে। বস্তি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআইওএস) সঞ্জয় সিংহ বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ আখ্যা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি নোটিস জারি করেছেন তিনি। সঞ্জয় জানান, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে স্কুলটির স্বীকৃতি বাতিল করা হতে পারে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

Advertisement
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy