কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে তৃণমূল নেতা গোপাল সাহার ইস্তফার পর রাজনৈতিক উত্তাপ চড়ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র পুরসভার সকল তৃণমূল কাউন্সিলরকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তৃণমূল সমর্থকদেরও এই ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন নিয়েই মদন এই নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন গোপাল। এর পর রাতেই সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে মদন তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, গোপালকে পরিকল্পিত ভাবে অপমান, লাঞ্ছনা ও অসভ্য আচরণের শিকার হতে হয়েছে। তাঁর দাবি, চেয়ারম্যান হিসেবে সমস্ত পরিষেবা কার্যত আটকে দিয়ে তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখে ফেলা হয়েছিল যে, সম্মান রক্ষার্থে পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না।
মদন তাঁর পোস্টে লেখেন, “আজ কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহাকে যে নোংরা ও অসভ্যতার চরম ব্যবহার সহ্য করতে হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন। সমস্ত কাউন্সিলর এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের অবিলম্বে তীব্র প্রতিবাদে শামিল হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।”
আরও পড়ুন:
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। শাসকদল বিজেপিকে নিশানা করে মদনের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের অপমানিত ও হেনস্থা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির একমাত্র জবাব হতে পারে সম্মিলিত পদত্যাগ। সেই কারণেই তিনি কামারহাটি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।
পোস্টের শেষে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে মদন জানান, তিনি আগামী পুরভোটে আবারও প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূলকে জয়ী করে পুরবোর্ড দখলের বিষয়ে আশাবাদী। তিনি লেখেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করছি, আগামী নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসকে জিতিয়ে আবার পুরসভায় দলের পতাকা ওড়াব। মানুষের সমর্থনে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে।” গোপালের ইস্তফা এবং তার পর পরই মদনের এই পদত্যাগের ডাক ঘিরে কামারহাটির রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন তৃণমূল কাউন্সিলরেরা দলীয় নির্দেশ মেনে পদত্যাগ করেন কি না, সে দিকেই নজর।