Advertisement

নবান্ন অভিযান

৯৩% ভোট নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্লেষণ! কিসের আশঙ্কা ছিল? ক’টি আসন ‘নিশ্চিত’? সকালে জানিয়ে দিলেন শাহ

প্রথম দফার নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, তাতে ভোট পড়েছে ৯২.৮৮ শতাংশ। নিজের বিশ্লেষণ প্রকাশ করলেন শাহ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩০
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটের বিশ্লেষণ অমিত শাহের মুখে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটের বিশ্লেষণ অমিত শাহের মুখে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ১৫২টি আসনে। তা নিয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্লেষণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত কয়েক দিন ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গেই আছেন। বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাচ্ছেন। শুক্রবার সকালে নিউ টাউনের হোটেল থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে শাহ জানিয়ে দিলেন তাঁদের বিশ্লেষণের কথা। প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে অন্তত ১১০টি আসনে বিজেপি জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। আরও বেশি আসনও আসতে পারে তাঁর দলের ঝুলিতে। শাহ আত্মবিশ্বাসী, পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি।

প্রথম দফার নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ এসেছিল। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, তাতে ভোট পড়েছে ৯২.৮৮ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই ভোটদানের হার নজিরবিহীন বলে কেউ কেউ দাবি করছেন। ভোটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন শাহ। দাবি, ভোট দিয়ে নিজেদের এবং পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে ফেলেছেন মানুষ। দ্বিতীয় দফার ভোটে বিজেপির জয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে। তাঁর কথায়, ‘‘গভীর রাত পর্যন্ত আমরা বিশ্লেষণ করেছি। ১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা সরকার গড়ব। প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের অনেক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ। ভয় থেকে ভরসার দিকে যাত্রা খুব ভাল ভাবে আপনারা শুরু করেছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটারেরা এই যাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য পুলিশকে অভিনন্দন। কারণ, বহু যুগ পরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কোনও মৃত্যু হয়নি।’’

শাহ জানিয়েছেন, এ রাজ্যে ভোটের প্রচারে তাঁরা বিপুল সাড়া পেয়েছেন প্রথম থেকেই। তবু তাঁদের কিছু আশঙ্কা ছিল। প্রথম দফার ভোটের চিত্র দেখে সেই আশঙ্কা দূর হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের আশঙ্কা ছিল, কর্মসূচিতে যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তা ভোটযন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছোবে তো? সেই আশঙ্কা দূর হয়েছে। ভোটযন্ত্রে মানুষের রায় নথিবদ্ধ হয়ে গিয়েছে।’’ পশ্চিমবঙ্গে স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, এই প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা আগেও ছিল। তবে এর আগে ভয় দেখিয়ে এবং কারচুপি করে তৃণমূল জিতেছিল। এ বার কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

Advertisement

আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হবে। শাহ জানিয়েছেন, ৫ মে-র পর অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথম দফাতেই বাংলার মানুষ ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে ফেলেছেন। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সারা দেশে উন্নয়নের যে যাত্রা চলছে, পশ্চিমবঙ্গও তাতে শামিল হতে চলেছে।’’ বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন শাহ। বলেছেন, ‘‘৫ তারিখের পর আদ্যোপান্ত বাঙালি, যিনি পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, তেমনই এক জন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন। বাইরের কেউ নয়।’’

তৃণমূলের দুর্নীতিকেও কটাক্ষ করেছেন শাহ। বলেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা বদলে যাবে। আর কোনও কাজের জন্য কাটমানি দিতে হবে না।’’ শাহের আশ্বাস, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে। মমতাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মেয়েদের বাইরে বেরোনো উচিত নয়, তাঁর শাসন করার অধিকার নেই বলে আমি মনে করি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে ঘুরতে পারবেন। কোনও গুন্ডা তাঁদের তাড়া করবে না। লোকসভায় মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করার জবাবও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়ে যাবেন।’’ শাহ জানিয়েছেন, নারীসুরক্ষার বার্তা দিতে প্রতীকী ভাবেই আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতার মা কিংবা সন্দেশখালির নির্যাতিতাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তাঁরা আইনসভায় বসে কঠোর ভাবে নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইন বানাবেন। রাজ্যে পরিবর্তনের মাধ্যমে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট-রাজ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
BJP Amit Shah First Phase Vote
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy