রাজ্যের বাকি ১৫ জেলার মতো বাঁকুড়ার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রেও মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে। তবে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনায় বিরোধী নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দায়ী করল শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘ধমকে’ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বৃদ্ধ। তাদের কার্যালয়ে বিনা প্ররোচনায় হামলা করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীই! যদিও কোতুলপুরে ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু কিংবা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সারবত্তা নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাঁকুড়া জেলা জুড়ে দেখা গিয়েছে উৎসবের মেজাজ। প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে বুথের দরজায় লাইন দিয়েছিলেন ভোটাররা। কিন্তু ভোট সকলে দিয়েছেন। কমিশনের তথ্য বলছে, বাঁকুড়ায় ভোটদানের হার ৯২.০৯ শতাংশ।
তার মধ্যেও যে সব ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে, সর্বাগ্রে থাকবে কোতুলপুর বিধানসভার যমুনা গ্রাম। বুথের বেশ কিছুটা দূরে থাকা তৃণমূলের একটি শিবিরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। শিবিরের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা তৃণমূল কর্মীদের একাধিক বাইকেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। আর অভিযুক্ত বিরোধী কোনও রাজনৈতিক দল নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী। তৃণমূলের দাবি, বিনা প্ররোচনায় এবং অকারণে এই হামলা হয়েছে। প্রতিবাদ জানাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল তারা। তৃণমূল প্রার্থী হরকালী প্রতিহার বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরোপুরি বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলেছে। বিজেপির পক্ষে কাজ করছে তারা। এই ঘটনা তো তারই প্রমাণ।’’
কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অতি তৎপরতার অভিযোগ ওঠে বাঁকুড়ার ছাতনা বিধানসভাতেও। সেখানকার নবগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩১ নম্বর বুথ থেকে বেশ কিছুটা দূরে থাকা তৃণমূলের শিবিরে ভাঙচুর চালানো এবং কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। তাঁদের তিন কর্মী জখম হয়েছেন বলে দাবি করেন ছাতনা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী স্বপন মণ্ডল।
বুথে প্রবেশ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বচসার জেরে বাঁকুড়ার তালড্যাংরা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহেরর নির্বাচনী এজেন্ট অনির্বাণ পাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেই। ফাল্গুনী বলেন, ‘‘বিবড়দা এসসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭১ নম্বর বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন অনির্বাণ। সেই সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় বাহিনী বিনা প্ররোচনায় তাঁকে মারধর করেছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।’’
ভোটগ্রহণের শেষ লগ্নে ভোট দিতে গিয়ে বুথে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আঙুল ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে। অভিযোগকারীও একই— তৃণমূল। কোতুলপুর বিধানসভার ১৫১ নম্বর বুথে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পরে বুথ চত্বরে মৃত্যু হয় ৮১ বছর বয়সি কাসেম চৌধুরীর। কাশিচটা গ্রামের ওই বাসিন্দার মৃত্যুর পরে স্থানীয়েরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, ভোটার কার্ড না নিয়ে যাওয়ায় কাশেমকে বুথের বাইরে থেকেই ফিরিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। বৃদ্ধ ভোটার কার্ড নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে ভোটার কার্ড নিয়ে আবার ভোটকেন্দ্রে যান তিনি। তখন অশীতিপরকে ধমকানো হয়। উত্তেজনায় অসুস্থ হয়ে মারা যান কাসেম। অসুস্থ হয়ে পড়ার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য মেলেনি বলেও অভিযোগ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত