Advertisement

নবান্ন অভিযান

শিবির ভাঙা থেকে ভয়ে ভোটারের মৃত্যু, বাঁকুড়া জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘সক্রিয়তায়’ ক্ষুব্ধ তৃণমূল, অভিযোগের পর অভিযোগ

প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে বুথের দরজায় লাইন দিয়েছিলেন ভোটাররা। কিন্তু ভোট সকলে দিয়েছেন। কমিশনের তথ্য বলছে, বাঁকুড়ায় ভোটদানের হার ৯২.০৯ শতাংশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪৪
Vote in Bankura

বাঁকুড়ায় ভোটের মধ্যে অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। —নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যের বাকি ১৫ জেলার মতো বাঁকুড়ার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রেও মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে। তবে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনায় বিরোধী নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দায়ী করল শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘ধমকে’ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বৃদ্ধ। তাদের কার্যালয়ে বিনা প্ররোচনায় হামলা করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীই! যদিও কোতুলপুরে ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু কিংবা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সারবত্তা নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাঁকুড়া জেলা জুড়ে দেখা গিয়েছে উৎসবের মেজাজ। প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে বুথের দরজায় লাইন দিয়েছিলেন ভোটাররা। কিন্তু ভোট সকলে দিয়েছেন। কমিশনের তথ্য বলছে, বাঁকুড়ায় ভোটদানের হার ৯২.০৯ শতাংশ।

তার মধ্যেও যে সব ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে, সর্বাগ্রে থাকবে কোতুলপুর বিধানসভার যমুনা গ্রাম। বুথের বেশ কিছুটা দূরে থাকা তৃণমূলের একটি শিবিরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। শিবিরের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা তৃণমূল কর্মীদের একাধিক বাইকেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। আর অভিযুক্ত বিরোধী কোনও রাজনৈতিক দল নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী। তৃণমূলের দাবি, বিনা প্ররোচনায় এবং অকারণে এই হামলা হয়েছে। প্রতিবাদ জানাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল তারা। তৃণমূল প্রার্থী হরকালী প্রতিহার বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরোপুরি বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলেছে। বিজেপির পক্ষে কাজ করছে তারা। এই ঘটনা তো তারই প্রমাণ।’’

Advertisement

কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অতি তৎপরতার অভিযোগ ওঠে বাঁকুড়ার ছাতনা বিধানসভাতেও। সেখানকার নবগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩১ নম্বর বুথ থেকে বেশ কিছুটা দূরে থাকা তৃণমূলের শিবিরে ভাঙচুর চালানো এবং কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। তাঁদের তিন কর্মী জখম হয়েছেন বলে দাবি করেন ছাতনা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী স্বপন মণ্ডল।

বুথে প্রবেশ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বচসার জেরে বাঁকুড়ার তালড্যাংরা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহেরর নির্বাচনী এজেন্ট অনির্বাণ পাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেই। ফাল্গুনী বলেন, ‘‘বিবড়দা এসসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭১ নম্বর বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন অনির্বাণ। সেই সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় বাহিনী বিনা প্ররোচনায় তাঁকে মারধর করেছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।’’

ভোটগ্রহণের শেষ লগ্নে ভোট দিতে গিয়ে বুথে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আঙুল ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে। অভিযোগকারীও একই— তৃণমূল। কোতুলপুর বিধানসভার ১৫১ নম্বর বুথে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পরে বুথ চত্বরে মৃত্যু হয় ৮১ বছর বয়সি কাসেম চৌধুরীর। কাশিচটা গ্রামের ওই বাসিন্দার মৃত্যুর পরে স্থানীয়েরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, ভোটার কার্ড না নিয়ে যাওয়ায় কাশেমকে বুথের বাইরে থেকেই ফিরিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। বৃদ্ধ ভোটার কার্ড নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে ভোটার কার্ড নিয়ে আবার ভোটকেন্দ্রে যান তিনি। তখন অশীতিপরকে ধমকানো হয়। উত্তেজনায় অসুস্থ হয়ে মারা যান কাসেম। অসুস্থ হয়ে পড়ার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য মেলেনি বলেও অভিযোগ।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
bankura TMC central force
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy