E-Paper

জেলা পরিষদ ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ‘সিট’, রহস্য দেখছে তৃণমূল

বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ জেলা পরিষদের ১০তলা ওই ভবনে আগুন লাগে। প্রথমে আগুন লাগে ওই ভবনের চারতলায়। তা ছড়িয়ে পড়ে পাঁচতলায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০৮:৪২
জেলা পরিষদের অফিসে অগ্নিকাণ্ড।

জেলা পরিষদের অফিসে অগ্নিকাণ্ড।

আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের অফিসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রহস্য গাঢ় থেকে গাঢ়তর হচ্ছে। আগুন লেগে ওই ভবনে রাখা বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র (ইভিএম) এবং বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি অন্য মাত্রা পেয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের এই রহস্য ভেদ করার জন্য শুক্রবার বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে লালবাজার। এই দলে চার জন সদস্য রয়েছেন। এ দিন ঘটনাস্থলে যায় ফরেন্সিক দল। আগুন লাগার কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেসও।

বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ জেলা পরিষদের ১০তলা ওই ভবনে আগুন লাগে। প্রথমে আগুন লাগে ওই ভবনের চারতলায়। তা ছড়িয়ে পড়ে পাঁচতলায়। এর পরেই আগুন পৌঁছে যায় নয় এবং দশতলায়! পাঁচতলার পরে আচমকা কী ভাবে আগুন নয় এবং দশতলাকে গ্রাস করল, বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন দমকল দফতরের প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তিনি জানিয়েছিলেন, উপরতলে রাখা সমস্ত ইভিএম পুড়ে গিয়েছে। আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। গোটা ঘটনায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। এ বার পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে চার সদস্যের সিট।

এই পরিস্থিতে শুক্রবারও ঘটনাস্থলে যান ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। জানা গিয়েছে, ওই বহুতলে রাখা কয়েক হাজার ইভিএম পুড়ে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, চোরাশিকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘের চামড়া, কুমীরের দাঁত-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেহাংশও ওই ভবনে রাখা ছিল। আগুনে সেই সবও ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। এ দিন ফরেন্সিক দলের সদস্যেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্রের নমুনা সংগ্রহ করেন। ইভিএম পুড়ে যাওয়ায় এ দিন ঘটনাস্থলে যান অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী।

রহস্যের মাত্রা আরও বেড়েছে অগ্নিদগ্ধ ওই ভবনে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ জাহাঙ্গির খানের অফিস থাকায়। জাহাঙ্গির জেলা পরিষদের পূর্ত ও সড়ক পরিবহণের কর্মাধ্যক্ষ। সম্প্রতি তাঁকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। জাহাঙ্গির গ্রেফতার হওয়ার পরেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গোটা বিষয়টিতে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা সামনে এসেছে।

গোটা ঘটনায় লেগেছে রাজনীতির রংও। ইভিএম-সহ ভোটের অন্যান্য সরঞ্জাম ভস্মীভূত হওয়ার পিছনে রহস্য দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে বলা হয়েছে, ভোটে ব্যবহার্য ওই জিনিসগুলি কসবা, যাদবপুর, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মেটিয়াবুরুজ, সাতগাছিয়া-সহ ডায়মন্ড হারবার মহকুমার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। দলের বক্তব্য, আগেই ইভিএম ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। তার পরেও কী ভাবে এই ঘটনা ঘটতে পারে? এই অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা, না কি প্রমাণ লোপাটের জন্য পরিকল্পিত ভাবে ঘটানো হয়েছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে তৃণমূল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Alipore

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy