বিশ্বকাপের আয়োজক হিসাবে প্রথম থেকে নানা বিতর্কে জড়িয়েছে আমেরিকা। ফুটবলারেরা সে সবের দিকে না তাকিয়ে, নিজেদের প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছেন। তার ফল মিলল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই। প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করল মাউরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দল।
এ বারের আমেরিকা আগের চেয়ে অনেক আলাদা। আত্মবিশ্বাসী। আগ্রাসী। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখতে চাইছেন ফোলারিন বালোগান, ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচেরা। নিজেদের মধ্যে অসংখ্য পাস খেলে আক্রমণে উঠছেন। একসঙ্গে চার-পাঁচ জন ফুটবলার সমানে ওঠা নামা করে খেলছেন। ফলে আক্রমণ বা রক্ষণে লোকের অভাব হচ্ছে না। মাঠ জুড়ে খেলার চেষ্টা করছেন। প্রথম ম্যাচেই আমেরিকার প্রেসিং ফুটবলের সামনে দাঁড়াতে পারল না প্যারাগুয়ে। কলকাতা ময়দানের ছোট দলগুলি যে ভাবে ডিফেন্সে পায়ের জঙ্গল তৈরি করে বড় দলগুলিকে আটকানোর চেষ্টা করে, লাতিন আমেরিকার দেশটিও অনেকটা সে ভাবে আমেরিকার আক্রমণ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করল। ডবল তো বটেই, কখন কখনও ট্রিপল মার্কিংয়েও বালোগানদের আটকানোর চেষ্টা করলেন প্যারাগুয়ের ফুটবলারেরা। লাভ অবশ্য বিশেষ হল না। প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের ফলাফল একরকম লিখে ফেলেন আমেরিকার ফুটবলারেরা।
দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। প্যারাগুয়ো পিছিয়ে পড়ে ম্যাচের ৭ মিনিটের আত্মঘাতী গোলে। আমেরিকার স্ট্রাইকারদের চাপে নিজের গোলে বল ঠেলে দেন প্যারাগুয়ের ড্যামিয়েন বোবাডিলা। তাঁর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর চাপ আরও বাড়ান আমেরিকার ফুটবলারেরা। একের পর এক আক্রমণে কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণ। লাতিন আমেরিকার দেশটির রক্ষণে বার বার ফাঁক তৈরি হতে শুরু করে। তৈরি হয় বিপজ্জনক পরিস্থিতি। তেমনই একটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩১ মিনিটে আমেরিকাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বালোগান। তাঁর ওয়ান টাচ নিখুঁত ফিনিশিং মনে রাখার মতো। তিনিই দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন প্রথমার্ধের শেষে সংযুক্ত সময়ে। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন।
০-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা বাড়ায় প্যারাগুয়ে। প্রতি আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। মাঝমাঠে আমেরিকার দাপট তাতে কিছুটা কমে। যদিও আমেরিকার ফুটবলারেরা আগ্রাসী ফুটবলের পথ থেকে সরেননি। প্যারাগুয়ের রক্ষণকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখেন তাঁরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও অন্তত ২ গোল করতে পারত আমেরিকা। কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন তাঁরা। এর মধ্যেই ৭৩ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে প্যারাগুয়ের হয়ে ব্যবধান কমান মরিসিয়ো। গোল খাওয়ার পর আক্রমণে ঝাঁজ আবার বাড়ায় আমেরিকা। তার সুফলও পায় বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজকেরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১ মিনিট আগে আমেরিকার হয়ে চতুর্থ গোল করে জয় নিশ্চিত করেন জিয়োভান্নি রেয়না।
আগের ম্যাচে কানাডা ১-১ ড্র করেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে। তবে গোটা ম্যাচে কানাডা যা খেলেছে তাতে এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল তারাই। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। ম্যাচের শুরু থেকে কানাডার দাপট ছিল বেশি। বসনিয়ার তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণ করছিল তারা। কিন্তু সুযোগ নষ্টের পরিমাণও ছিল বেশি। কানাডার আক্রমণ ভাগে খেলছিলেন জোনাথন ডেভিড। বেশির ভাগ বলই পাস দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে উদ্দেশ্য করে। তবে ডেভিড একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে যাচ্ছিলেন। বসনিয়ার ডিফেন্ডারদের পায়ের জঙ্গলের সামনে গিয়ে আটকে যাচ্ছিলেন। কানাডা সেট পিসও কাজে লাগাতে পারছিল না।
২১ মিনিটে খেলার বিপরীতে গোল দেয় বসনিয়াই। কর্নার থেকে ফ্লিক করেছিলেন বসনিয়ার এক ফুটবলার। গোলের একদম সামনে ছিলেন জোভো লুকিচ। তিনি সহজেই বল জালে জড়িয়ে দেন। আচমকা গোল খেয়ে কিছুটা হতভম্ব হয়ে যায় কানাডা। ৭৯ মিনিটে অবশেষে সমতা ফেরায় কানাডা। গোল করেন সাইল লারিন। সতীর্থের সুন্দর ব্যাক ফ্লিক পেয়ে চকিতে ঘুরে গিয়ে গোল করেন তিনি। এর পরেও বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল কানাডা। কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচ ড্র করে আসার কথাই ছিল না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
- ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
- বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
-
০২:৩৫
বিশ্বকাপে আটকে গেল কানাডা, প্রচুর সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়ে বসনিয়ার বিরুদ্ধে ড্র আয়োজক দেশের -
১৩:৪০
ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার ঘিরে অসন্তোষ, ঠিকমতো দেখাই গেল না উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ -
১২:০৪
প্রথম ম্যাচেই তিন লাল কার্ড দেখিয়ে ‘খলনায়ক’ সাম্পাইয়ো, ব্রাজিলের রেফারি গত দু’টি বিশ্বকাপেও ছিলেন, বিতর্ক প্রায় নিত্যসঙ্গী তাঁর -
০৯:৩২
সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনী দঃ কোরিয়ার, তবু পিছিয়ে থেকে চেকিয়ার বিরুদ্ধে জয়! বিশ্বকাপে এগোতে হলে দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন মিনদের -
০৯:১৫
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নজির, ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন মেক্সিকোর ১৭ বছরের মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা