Advertisement

নবান্ন অভিযান

আমার জীবনে ভাই এমন ভোট দেখি নাই, ৯৬-৯৭ শতাংশ ভোট পড়ছে! মানে দিদির ফেভারেই আছে: অনুব্রত

বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া ভোট যে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয়েছে, তা শাসক-বিরোধী, দুই পক্ষই মেনে নিয়েছেন। বীরভূমে শতকরা ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। তা-ই দেখে বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ‘‘আমার জীবনে ভাই এমন ভোট দেখি নাই!

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪২
Anubrata Mondal

ভোট শেষ হওয়ার পরে অনুব্রত মণ্ডল। —নিজস্ব চিত্র।

প্রথম দফা ভোটদানের হার দেখে শাসক-বিরোধী, দুই পক্ষই আশাবাদী। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘গুড সাইন।’’ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘‘১৫২ সিটে ১২৫-এর নীচে নামার জায়গা নেই।’’ তবে ভোটদানের হার দেখে বিস্মিত অনুব্রত ‘কেষ্ট’ মণ্ডল। তৃণমূলে ‘ভোট করানোর’ জন্য ‘খ্যাত’ বীরভূমের নেতার স্বীকারোক্তি, এমন নির্বাচন তিনি তাঁর জীবদ্দশায় দেখেননি।

বীরভূমে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া ভোট যে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয়েছে, তা শাসক-বিরোধী, দুই পক্ষই মেনে নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭টা পর্যন্ত বীরভূমে শতকরা ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রথম দফায় রাজ্যের বাকি যে ১৫ জেলায় ভোট হয়েছে, সেখানেও কম বেশি একই ছবি। তা-ই দেখে বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ‘‘আমার জীবনে ভাই এমন ভোট দেখি নাই! এই ৯৬-৯৭-৯৮ শতাংশ পোল... এত পোল মানে দিদির ফেভারে পড়বে।’’ বস্তুত, একই আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গিয়েছে কেষ্টর ‘দিদি’র গলাতেও। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসআইআর নিয়ে মানুষ ভীত ছিলেন। এ বার সকলে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিচ্ছেন। এবং গণতন্ত্রের জন্য তথা তৃণমূলের জন্য শুভ লক্ষণ এটা। কেষ্ট বলেন, ‘‘১৫২টা আসনে ভোট হল তো? আমি প্রথমে বলেছিলাম ১৩০টা পাবে তৃণমূল কংগ্রেস। এখন ১৫-২০টা বিজেপি পাবে কি না আমার সন্দেহ আছে।’’

বীরভূমে ভোটে যতটুকু অশান্তি হয়েছে, তা ধর্তব্যেই আনছেন না অনুব্রত। তিনি বলেন, ‘‘এটা কোনও গন্ডগোলই নয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বীরভূম জুড়ে মানুষ ঝেড়ে ভোট দিয়েছে।’’ নিজের ভোট-অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তৃণমূল নেতা জানান, অন্যান্য বার তাঁদের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলতে হয়েছে, ভোট দিতে যান। টোটো পাঠিয়ে দিয়েছেন ভোটারদের বাড়িতে। কিন্তু এ বার সে সব অতীত। সকলে বেরিয়ে এসে ভোট দিয়ে গিয়েছেন। এবং সেই ভোটের অধিকাংশই তৃণমূলের সমর্থনে।

ভোটদানের এমন পরিসংখ্যানের কারণ দর্শাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ অনুব্রত বলেন, ‘‘এসআইআরে কেমন জব্দ করেছিল মানুষকে! বিডিও অফিসে লাইন দিতে হয়েছে মানুষকে। হয়রানির একশেষ করেছিল। তার পর কাল রাত পর্যন্ত ভোটার লিস্টে নাম উঠেছে। কষ্ট হবে না? মানুষ কত কেঁদেছে! কত মানুষ মারা গিয়েছে। সেই আত্মা বলছে, বার হ, বার হ, দিদিকে ভোট দে।’’

বীরভূমের ভোট মেটার পর স্বস্তিদায়ক হাসি হেসে তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘আরে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জায়গা পশ্চিমবঙ্গ। যে ভাবে থাবা মারতে হয় সে ভাবেই মেরেছি। যাও।’’

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Anubrata Mondal TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy