প্রথম দফা ভোটদানের হার দেখে শাসক-বিরোধী, দুই পক্ষই আশাবাদী। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘গুড সাইন।’’ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘‘১৫২ সিটে ১২৫-এর নীচে নামার জায়গা নেই।’’ তবে ভোটদানের হার দেখে বিস্মিত অনুব্রত ‘কেষ্ট’ মণ্ডল। তৃণমূলে ‘ভোট করানোর’ জন্য ‘খ্যাত’ বীরভূমের নেতার স্বীকারোক্তি, এমন নির্বাচন তিনি তাঁর জীবদ্দশায় দেখেননি।
বীরভূমে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া ভোট যে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয়েছে, তা শাসক-বিরোধী, দুই পক্ষই মেনে নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭টা পর্যন্ত বীরভূমে শতকরা ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রথম দফায় রাজ্যের বাকি যে ১৫ জেলায় ভোট হয়েছে, সেখানেও কম বেশি একই ছবি। তা-ই দেখে বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ‘‘আমার জীবনে ভাই এমন ভোট দেখি নাই! এই ৯৬-৯৭-৯৮ শতাংশ পোল... এত পোল মানে দিদির ফেভারে পড়বে।’’ বস্তুত, একই আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গিয়েছে কেষ্টর ‘দিদি’র গলাতেও। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসআইআর নিয়ে মানুষ ভীত ছিলেন। এ বার সকলে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিচ্ছেন। এবং গণতন্ত্রের জন্য তথা তৃণমূলের জন্য শুভ লক্ষণ এটা। কেষ্ট বলেন, ‘‘১৫২টা আসনে ভোট হল তো? আমি প্রথমে বলেছিলাম ১৩০টা পাবে তৃণমূল কংগ্রেস। এখন ১৫-২০টা বিজেপি পাবে কি না আমার সন্দেহ আছে।’’
বীরভূমে ভোটে যতটুকু অশান্তি হয়েছে, তা ধর্তব্যেই আনছেন না অনুব্রত। তিনি বলেন, ‘‘এটা কোনও গন্ডগোলই নয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বীরভূম জুড়ে মানুষ ঝেড়ে ভোট দিয়েছে।’’ নিজের ভোট-অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তৃণমূল নেতা জানান, অন্যান্য বার তাঁদের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলতে হয়েছে, ভোট দিতে যান। টোটো পাঠিয়ে দিয়েছেন ভোটারদের বাড়িতে। কিন্তু এ বার সে সব অতীত। সকলে বেরিয়ে এসে ভোট দিয়ে গিয়েছেন। এবং সেই ভোটের অধিকাংশই তৃণমূলের সমর্থনে।
ভোটদানের এমন পরিসংখ্যানের কারণ দর্শাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ অনুব্রত বলেন, ‘‘এসআইআরে কেমন জব্দ করেছিল মানুষকে! বিডিও অফিসে লাইন দিতে হয়েছে মানুষকে। হয়রানির একশেষ করেছিল। তার পর কাল রাত পর্যন্ত ভোটার লিস্টে নাম উঠেছে। কষ্ট হবে না? মানুষ কত কেঁদেছে! কত মানুষ মারা গিয়েছে। সেই আত্মা বলছে, বার হ, বার হ, দিদিকে ভোট দে।’’
বীরভূমের ভোট মেটার পর স্বস্তিদায়ক হাসি হেসে তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘আরে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জায়গা পশ্চিমবঙ্গ। যে ভাবে থাবা মারতে হয় সে ভাবেই মেরেছি। যাও।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২১:৫৯
প্রচার নয়, ভোট আগে! টানা সাড়ে চার ঘণ্টা দলীয় দফতরে ভোটদানে নজরদারি শাহের, দিনের শেষে ফলের ‘আভাস’ -
২১:৪৭
কেউ মার খেলেন, কেউ ভোট দিতে পারলেন না, প্রথম দফার নজরকাড়া প্রার্থীদের কেউ দিনভর বাড়িতেই -
২১:৩০
৩০ বছর পর বিধানসভায় যেতে দিনভর ধীরস্থির অধীর, শেষে দৌড়ঝাঁপ বহরমপুরে, কমিশনে দরাজ, পুলিশে রুষ্ট ‘রবিনহুড’ -
২০:১০
নন্দীগ্রামে ‘অচেনা’ শুভেন্দু! শান্ত মেজাজে সামাল দিলেন ভোট! দাবি, প্রথম দফাতেই ১২৫ আসনে জিতবে বিজেপি -
১৯:২৯
‘হারতে পারে না তৃণমূল, আজকেই জিতে বসে আছি, পরের দফায় দুরমুশ করব’! প্রথম দফা ভোটশেষে মমতা