Advertisement

প্রথম দফায় অন্ততপক্ষে ১২৫! আরও বেড়ে হতে পারে ১৩৫, যত ভোট, তত জোরালো দিদির প্রত্যাবর্তন, দাবি করল তৃণমূল

কুণাল এবং ব্রাত্য বারংবার বোঝাতে চান, দল যে হিসাব কষেছিল, সেই অনুয়ায়ী ভোট হয়েছে। দুই নেতাই দাবি করেছেন, তৃণমূলের ভোট শতাংশ এবং আসন দুই-ই বাড়বে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:১৯
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।

কুলছাপানো ভোটদানের হারে হিসাবের অভিমুখ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন তৃণমূল দাবি করল, তারা সরকার গড়ার কাছাকাছি সংখ্যায় ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে! দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে শাসকদলের ‘ঘাঁটি’ বলে পরিচিত দক্ষিণবঙ্গে। সেই সংখ্যা যোগ হওয়ার পরে বিজেপি দুরমুশ হয়ে যাবে।

প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার পর তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু দাবি করেন, খুব কম করে হলেও ১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন জিততে চলেছে তৃণমূল। কুণালের কথায়, ‘‘খুব কম হলেও আমরা ১২৫টি আসন জিতছি। এই সংখ্যা বেড়ে ১৩৫-ও হতে পারে।’’ শুধু তা-ই নয়। কুণালদের এ-ও দাবি, যা ভোট হয়েছে, তাতে নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হারতে চলেছেন! কুণালের কথায়, ‘‘উনি ভবানীপুরেও হারবেন। নন্দীগ্রামেও হারবেন। উনি প্রাক্তন বিধায়ক হতে চলেছেন।’’ ঘটনাচক্রে, প্রথম দফার ভোটে কুণাল যেমন দাবি করেছেন তৃণমূল কম করে ১২৫টি আসন পাবে, তেমনই শুভেন্দুও দাবি করেছেন বিজেপি পাবে ১২৫টি আসন।

বৃহস্পতিবার বিকালে বৌবাজার ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মোড়ে চৌরঙ্গির তৃণমূল প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির তৃণমূল প্রার্থী সন্দীপন সাহার সমর্থনে জনসভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভায় মমতা বলেন, ‘‘আমি যদি মানুষের নাড়ি বুঝতে পারি, তবে আপনাদের বলি, আমরা ইতিমধ্যেই চালকের আসনে বসে আছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এ বার প্রত্যেকেই ভোট দিয়েছেন। কারণ, কেউ কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না। যে হেতু অসংখ্য মানুষের নাম নির্মম ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি চাই ভোটগণনাও যেন সঠিকভাবে হয়।

Advertisement

কী কারণে তৃণমূল এমন দাবি করছে? তৃণমূল মুখপাত্র কুণালের কথায়, ‘‘আমরা জানতাম বিপুল ভোট পড়বে। কারণ, এসআইআর করে যেমন মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তেমনই বহু বৈধ নাগরিককেও ভোটের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা চক্রান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। বিপুলসংখ্যক মহিলা ভোট দিয়েছেন। যে সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই গিয়েছে। বিজেপির কোমর ভেঙে গিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপি নানা সংখ্যা বলে ধারণা তৈরি করতে চাইছে ওদের কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে। ৪ তারিখ মিলিয়ে নেবেন।’’

কোনও সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে গণতন্ত্রে সেই সরকারের বিরুদ্ধে স্থিতাবস্থা বিরোধিতা তৈরি হওয়াই দস্তুর। নির্বাচনী রাজনীতিতে সাধারণ ধারণা হল, ভোট বেশি পড়ার অর্থ স্থিতাবস্থা বিরোধিতাকে প্রতিষ্ঠিত করা, বদলের পক্ষে রায় দেওয়া। কিন্তু কয়েক মাস আগে হওয়া বিহারের এসআইআর এবং সেখানকার নির্বাচনের উদাহরণ টেনে ব্রাত্য বলেন, ‘‘বিহারে এসআইআরের পরে দেখা গিয়েছিল বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে সরকারের প্রত্যাবর্তন হয়েছে।’’ সেই অঙ্কেই পশ্চিমবাংলায় মমতা চতুর্থবার সরকার গড়তে চলেছেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। কুণাল এবং ব্রাত্য বারংবার বোঝাতে চেয়েছেন, দল যে হিসাব কষেছিল, সেই অনুয়ায়ী ভোট হয়েছে। দুই নেতাই দাবি করেছেন, তৃণমূলের ভোট শতাংশ এবং আসন দুই-ই বাড়বে। মেটিয়াবুরুজ থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একই দাবি করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

TMC Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy