সাম্প্রতিক সময়ে বিচার-ব্যবস্থা এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন নির্দেশ ও পদক্ষেপ নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছে বিরোধীদের। এমন আবহে দেশের বিচার-ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ভোট পরিচালনাকে ‘স্বাধীন ও স্বচ্ছ’ বলার পাশাপাশি রাজ্যপাল আর এন রবি অভিযোগ করলেন, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা চলছে।
ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্সের মহেন্দ্রলাল সরকার প্রেক্ষাগৃহে বি আর আম্বেডকরের ১৩৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যপাল রবি। সেখানেই তিনি বলেছেন, “আমাদের বিচার-ব্যবস্থা সংশয়াতীত ভাবে স্বাধীন। পাশাপাশি, গোটা বিশ্ব ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করে। এত বড় দেশে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন পরিচালনার যে পদ্ধতি, গোটা বিশ্ব থেকে লোকজন এসে তা শেখেন।” এর পরেই তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন, “দুর্ভাগ্যজনক যে, বর্তমানে দেশের ভিতরেই কিছু মানুষ এই প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে দিচ্ছেন। পক্ষে রায় না-এলেই বলা হয়, বিচার-ব্যবস্থা আপস করেছে। নির্বাচনে জিতলে সব ঠিক আছে। কিন্তু হারলে বলা হয়, কমিশন আপস করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক সমাধানের পথে না-গিয়ে মানুষের মনে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক।” আম্বেডকরকে স্মরণ করেই রবির দাবি, “এঁরা আমাদের ভিতরের শত্রু, যাঁদের সম্পর্কে আম্বেডকর আমাদের সতর্ক করেছিলেন।” পাশাপাশি, সংবিধান ও ভারতের প্রেক্ষিতে ‘সেকুলারিজ়ম’, এই শব্দটির অর্থ ধর্ম-নিরপেক্ষতা নয়, বরং তা ‘পন্থা বা মত-নিরপেক্ষতা’, ব্যাখ্যা দিয়েছেন রবি। এরই সঙ্গে, স্কুল, কলেজ স্তরে সংবিধান-সাক্ষরতার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। ন্যায়-বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া কেন ‘দামি’, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রবি।
ওই অনুষ্ঠানেই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও বর্তমান গুরুত্বের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি কাল্টিভেশন অব সায়েন্সের ডিরেক্টর কালোবরণ মাইতি জানিয়েছেন, তাঁদের উদ্যোগে বিজ্ঞান জাদুঘর তৈরি হতে চলেছে। পাশাপাশি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে বারুইপুরে প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেছেন কালোবরণ। তাঁর মতে, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি হচ্ছে, যা দেশকে ‘আত্মনির্ভরতা’র দিকে এগিয়ে দিচ্ছে।” অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য আধিকারিক, গবেষক, পড়ুয়া ও শিক্ষকেরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)