জমানা বদলে ফলতায় তৎপর বিজেপি-সিপিএম

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফলতা জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার-কর্মসূচি কার্যত স্তিমিত। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিন পরে এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে সিপিএম-ও। গা-ঝাড়া দিয়ে এখন সুযোগ কাজে লাগিয়ে ময়দানে দেখা যাচ্ছে সিপিএমকে, সঙ্গে আইএসএফ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ০৮:৩৬

—প্রতীকী চিত্র।

নজিরবিহীন ভাবে সরকার গঠনের পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ২১ মে পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে। আর তাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শাসক দল বিজেপি সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক শিবিরের মতে, নামে পুনর্নির্বাচন হলেও, বিজেপির ২০৭টি আসনে জিতে সরকার গঠনের পরে এই ভোটের মেজাজ কার্যত উপনির্বাচনের মতোই। এই আবহে সব ঠিক থাকলে, আজ, শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকের পরে ফলতায় নির্বাচনী সভা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই হতে চলেছে তাঁর প্রথম জেলা সফর। এর পরে ১৯ তারিখ ফলতায় রোড-শোও করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফলতা জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার-কর্মসূচি কার্যত স্তিমিত। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিন পরে এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে সিপিএম-ও। গা-ঝাড়া দিয়ে এখন সুযোগ কাজে লাগিয়ে ময়দানে দেখা যাচ্ছে সিপিএমকে, সঙ্গে আইএসএফ। সিপিএম সূত্রের মতে, এখানে ভোট শতাংশ সামান্য বাড়াতে পারলেও তা হবে দলের জন্য ভবিষ্যতের পুঁজি। ইতিমধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সদস্য সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী এরিয়া কমিটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আগামী ১৮ তারিখ কেন্দ্রীয় নির্বাচনী সভা করার চেষ্টাও চলছে। এখানে এ বারের সিপিএম প্রার্থী, ফলতা বাজার এলাকার বাসিন্দা শম্ভুনাথ কুর্মী ২০১৪ থেকে তৃণমূলের ‘অত্যাচারে’ ঘরছাড়া ছিলেন বলে অভিযোগ। থানার মোড়, হরিণডাঙা, মল্লিকপুর হাট-সহ নানা জায়গায় ছোট ছোট সভা, জনসংযোগ কর্মসূচি করছেন শম্ভু।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় ক্ষেত্র ডায়মন্ড হারবার এবং তারই অন্তর্গত ফলতায় বরাবরই ব্যাপক ‘সন্ত্রাসে’র অভিযোগে সরব ছিল বিরোধীরা। গত লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবার থেকে ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৯৩০ ভোটে জিতেছিলেন অভিষেক। সে বার দেখা গিয়েছিল, ফলতার অন্তত ১৭টি বুথে বিরোধীরা কার্যত কোনও ভোটই পায়নি! এই বারেও নির্বাচনী আবহে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ‘হুজ্জুতি’র অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা।

তবে রাজ্যে বিপুল জয়ের পরে এ বার ফলতা-জয়ও প্রায় ‘সময়ের অপেক্ষা’ বলে মনে করছেন বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। মল্লিকপুর, নপুকুরিয়া, হরিণডাঙা, ফতেপুর, কলাতলাহাট, সুন্দরীকা, খান্দালিয়া,হলদিঘি-সহ গোটা বিধানসভা কেন্দ্র চষে বেড়াচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডা। প্রচার-সভা থেকে পুরনো জমানার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলছেন, “তৃণমূল চলে গিয়েছে। ধমকানি, চমকানি অতীত! এখন সেই সব কেউ করলে, একটা চার চাকা আসবে আর তাকে নিয়ে চলে যাবে!” তাঁর সংযোজন, “২৯৩টি আসনে যখন ভোট হয়েছিল, তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী।” প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারের বাকি ৬টি আসনে ভোট বাড়িয়েছে বিজেপি। জিতেছে সাতগাছিয়া আসনটিও। এ বার ফলতাকে পাখির চোখ করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির সাংগঠনিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে থাকা আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “ফলতার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এক জোট। বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, এ বার গেরুয়াময় হবে ফলতা।”

রাজ্যে পালাবদলের পরে ফলতা জুড়ে দলীয় দফতর ভাঙচুর, দখলের অভিযোগ করছে তৃণমূল। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরকে বেশ কিছু দিন এলাকায় দেখা যায়নি। সম্প্রতি পুলিশের হস্তক্ষেপে বেলসিংহে নিজের বাড়িতে জাহাঙ্গির ফিরলেও, তাঁর এবং তাঁর অনুগামী বলে পরিচিতদের এলাকায় তেমন তৎপরতা ‘দেখা যাচ্ছে না’ বলে স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য। সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রচারে বাধা, কর্মীদের মারধর, প্রশাসনের অপব্যবহারের মতো অভিযোগ তুলছেন জাহাঙ্গির নিজেও।

জনসংযোগ সারছেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লাও। তিনি স্লোগান তুলছেন, ‘বিজেপির বিকল্প তৃণমূল নয়, একমাত্র কংগ্রেস’।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Falta Re Election CPIM BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy