রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরে বিভিন্ন স্টেশন চত্বর থেকে রেলের হকার উচ্ছেদের ঘটনাকে সামনে এসেছে। আর তাকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে ইতিমধ্যেই নিশানা করছে বিরোধীরা। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ চলবে না, এমন দাবিতে বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনায় বিভিন্ন স্টেশন চত্বরে সিপিএম ও দলের শ্রমিক সংগঠন সিটুর নেতৃত্বে প্রতিবাদ হয়েছে। একই দাবিতে শিয়ালদহ, হাওড়া, বালিগঞ্জে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। উল্টো দিকে, কর্মসংস্থানের প্রশ্নে গত বাম ও তৃণমূল আমলকে বিঁধে পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি।
‘জীবন-জীবিকা বাঁচাও’, স্লোগান তুলে শিয়ালদহে প্রতিবাদসভা করেছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে দাবি, রেল ও পুলিশ অনুমতি না-দেওয়ায় রাস্তার ধারেই সভা হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ মানব না। গরিব মানুষের পেটে লাথি মারা যাবে না।” কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন বিধায়ক মদন মিত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার পাল্টা বলেছেন, “কারা টাকার বিনিময় হকার বসিয়েছিলেন? জামার রং পাল্টে বাম ও তৃণমূল আমলে যাঁরা কর্মসংস্থান দিতে না-পেরে হকার তৈরি করেছিলেন, তাঁরাই আজ গরিবের ‘মসিহা’ সাজছেন। যাঁরা পরিযায়ী হতে পারেননি, তাঁরা আজ হকার। বর্তমান সরকারের প্রাথমিক কাজ কর্মসংস্থান তৈরি করা। সরকারের উপরে মানুষের ভরসা আছে যে, অবশ্যই বিকল্প ব্যবস্থা হবে।”
এরই মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনাতে তিনটি স্টেশন চত্বরে প্রতিবাদে নামে সিপিএম ও সিটু। নৈহাটিতে সিটুর জেলা সম্পাদক গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “রেল কর্তৃপক্ষ অন্যায় ভাবে স্টেশন থেকে হকার উচ্ছেদের পরিকল্পনা নিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের রুটি-রুজি বিপন্ন। পুনর্বাসন ও বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না।” সিটুর তরফে হকারদের প্রতিনিধিদল আরপিএফ-এর সঙ্গে দেখা করেছে। কাঁচরাপাড়ায় স্টেশন ম্যানেজারের কাছে দাবিপত্র দেওয়া হয়েছে। বেলঘরিয়াতে রাজ্য ও রেল পুলিশ হকার উচ্ছেদে এলে গার্গী ও সিপিএম নেতা সায়নদীপ মিত্রের নেতৃত্বে হকারেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। দু’পক্ষে বিতণ্ডাও বাধে। সিটু অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের ডাকে আজ, শুক্রবার শিয়ালদহে ‘রেল হকার সমাবেশে’র ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)