নবান্নের সঙ্গে সংঘাতের আবহে কি কলকাতার মেয়র পদে কাজ চালাতে কি আগ্রহ হারাচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম (ববি) ? রাজনৈতিক পালাবদলের পর দলীয় কাউন্সিলরদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছিক তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক কাউন্সিলর ও মেয়র পারিষদ জানিয়েছেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ফিরহাদ। তাঁদের ধারণা, প্রশাসন পরিচালনায় রাজনৈতিক কারণে তৈরি প্রশাসনিক জটিলতার জন্য ববি এ কথা বললেও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে দলই।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের প্রায় সব স্তরেই তৃণমূল পরিচালিত স্থানীয় প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ, এমনকি পুরসভাগুলিতেও তার ছাপ পড়েছে। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে কলকাতা পুরসভার নতুন কমিশনারের সঙ্গে তৃণমূলের বোর্ডের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ ক্রমশ বেড়েছে। এই অবস্থায় রাজ্য জুড়ে পুর- প্রশাসন সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৃহস্পতিবারের মন্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। দুর্গাপুরে স্থানীয় প্রশাসন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘অধিকাংশ পঞ্চায়েত ও পুরসভার লোকেরা পালিয়ে গিয়েছে। কেউ তাড়ায়নি। ওদের মধ্যে দু’টো গ্লানি কাজ করছে। এক, ছাপ্পা মেরে জিতেছে। দ্বিতীয়, আবাস যোজনা থেকে শুরু করে ঠিকাদারদের থেকে এত অগ্রিম নিয়েছে, এখন টাকা ফেরত দিতে হবে।’’
নবান্নে ‘রং’ বদলের পর হাওয়া বদলাতে শুরু করেছে কলকাতা পুরসভায়ও। শুধু তাই নয়, আজ শুক্রবার পুরসভার পূর্বনির্ধারিত মাসিক অধিবেশন শুরুর কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার আচমকাই তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন। পুরসভা সূত্রে খবর, আগেই অধিবেশনের দিনক্ষণ স্থির করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ দিন সেই বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে ‘অনিবার্য কারণে’ তা স্থগিত করেন পুরসভার সচিব। উল্লেখযোগ্য এ দিনই তাঁকে সরিয়ে ওই পদে নতুন একজনকে দায়িত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। উদ্ভূত এই জটিলতা নিয়ে আজ দলীয় স্তরে বৈঠকে বসছে তৃণমূল। তৃণমূলের সব কাউন্সিলরকে ওই ডাকা বৈঠকে ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুরসভা সূত্রে খবর, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে মেয়র ও নতুন পুর কমিশনারের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছিল। মাসিক অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্তে তা আরও বেড়েছে। কলকাতা পুর আইন ১৯৮০-এর ৯৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতি মাসে পুরসভার অন্তত একবার অধিবেশন হওয়ার কথা। পুরসভার চেয়ারপার্সন কমপক্ষে কুড়ি জন বা তার বেশি প্রতিনিধি নিয়ে অধিবেশন ডাকতে পারেন। যে পদ্ধতিতে তা বাতিল করা হয়েছে তাতে বিস্মিত শাসক- শিবির। মেয়র পারিষদ (আইন) বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘চেয়ারপার্সন হিসেবে অধিবেশন ডাকার কথা মালা রায়ের। চেয়ারপার্সনের অনুমতি ছাড়া তা বাতিল করাও বেআইনি।’’ আর এক মেয়র পারিষদ (নিকাশি) তারক সিংহের অভিযোগ, ‘‘পুর সচিব মাসিক অধিবেশন স্থগিতের কারণ হিসাবে বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছেন, অনিবার্যকারণ বশত অধিবেশন স্থগিত হল। অনিবার্য কারণ কী, তা বুঝতে পারছি না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)