প্রতি বছরই বর্ষায় বন্যায় ভাসে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা। এ বার বন্যা নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে রাজ্যের নতুন সরকার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘‘ইতিমধ্যে নবান্নে ডিভিসি-র চেয়ারম্যান সুরেশ কুমারকে রেখে বৈঠক হয়েছে। সমন্বয় বৈঠকও হয়ে গিয়েছে। পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করে, প্রাক্-মরসুমে যা করা উচিত, আমরা শুরু করে দিয়েছি।’’
অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বা ডিভিসি তাদের জলাধারগুলি থেকে বেশি জল ছাড়লে বানভাসি হয় পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়ার নানা এলাকা। দামোদর, রূপনারায়ণ, দ্বারকেশ্বরের জল ঢোকায় ভুগতে হয় মানুষকে। প্রতি বর্ষায় জলে ভাসে ঘাটাল-সহ পশ্চিম মেদিনীপুরের নানা এলাকাও। উত্তরবঙ্গেও বড় বন্যা হয়েছে। ডিভিসি-র বিরুদ্ধে রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ার অভিযোগ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক বার বন্যাকে ‘ম্যানমেড’ বলে দাবি করেন।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, সেচ দফতরকে নিয়ে বিডিও, এসডিও-রা কাজ করবেন। এ ছাড়া, নিম্ন দামোদর, ঘাটাল, কান্দি, মালদহ ও উত্তরবঙ্গ— রাজ্যকে এই পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে বর্ষার সময়ে বিপর্যয় ঘটে। সেখানে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বলেন, ‘‘এখনই একশো শতাংশ সমাধান করতে পারব না। কারণ, আমরা খুব অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়েছি। কিন্তু পাহাড়ে মানুষ ভেসে চলে যাবে, আর মুখ্যমন্ত্রী মা দুর্গাকে নিয়ে প্যারেড করবেন, এটা এই সরকারে হবে না।’’
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের প্রদীপ মজুমদার বলেন, “বন্যা রোধে সেচ দফতরের তরফে বহু লেখালিখি, বিধানসভায় আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পরিদর্শনও হয়েছে। তাই কেন্দ্র সবটাই জানে। এখন রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। আশা করব, এ বার কেন্দ্র গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং মানুষের দুর্ভোগ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)