রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ, বাংলার জন্য আর্থিক প্যাকেজ-সহ নানাবিধ বিষয়ে আলোচনা করতে আজ সন্ধ্যায় দু’দিনের সফরে দিল্লি এলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ রাতে তিনি দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। ভোট-পরবর্তী রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় দুই নেতার মধ্যে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে আজই প্রথম বার দিল্লি এলেন শুভেন্দু। এ দিন রাত প্রায় সাড়ে ন’টা নাগাদ অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয় তাঁর। গত কালই বিএসএফকে সীমান্তে কাঁটাতার ও আউটপোস্ট বানানোর জন্য জমি তুলে দিয়েছে রাজ্য। সূত্রের মতে, এ ছাড়াও রাজ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন যে পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে, তা শাহকে জানান শুভেন্দু। সূত্রের মতে, আগামী সাত দিনের (বিজেপির একাংশের দাবি ২৭ মে) মধ্যে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ সেরে ফেলতে চাইছেন শুভেন্দু। তাই আজ শাহের সঙ্গে এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত ভাবে কথা হয় তাঁর। রাতে ভাই সৌমেন্দুর বাসভবনে চলেযান শুভেন্দু।
আগামিকাল সকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশে ক্ষমতা পরিবর্তন, পূর্ব সীমান্তে চিনের ক্রমাগত চাপ সৃষ্টির চেষ্টা, বিশেষ করে ‘চিকেন’স নেক’-এর কারণে পূর্ব সীমান্তে সেনা-গতিবিধি বৃদ্ধি পাওয়ার আবহে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনাথের সঙ্গে বৈঠকের পরে আগামিকাল বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা শুভেন্দুর। তার পরে রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করে কলকাতা ফিরে যাবেন।
সূত্রের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলার অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ আর্থিক সাহায্যের দাবি জানাতে পারেন শুভেন্দু। অর্থনীতিবিদদের মতে— এক দিকে বাংলার মাথায় পাহাড়প্রমাণ ঋণ, অন্য দিকে জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার জেরে রাজকোষের উপরে বিপুল চাপ তৈরি হতে চলেছে। বিজেপি সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় সাহায্য ছাড়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দেওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই বাংলার জন্য আর্থিক রোডম্যাপ স্থির করার পাশাপাশি বড় মাপের বেসরকারি বিনিয়োগ যাতে রাজ্যে আসে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার জানাবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিকে আজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। আগামিকাল দিল্লিতে থাকছেন না নির্মলা। ফলে শমীকের সঙ্গে বাংলার আর্থিক দাবি-দাওয়া নিয়ে বৈঠক হচ্ছে না বলে জানান দলীয় নেতৃত্ব। তবে দলীয় বিষয় নিয়ে কথা বলতে আজ বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেন শমীক। সূত্রের মতে, আগামিকাল দলের সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তাঁর। শমীকের দাবি, দলীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি ভূপেন্দ্রর সঙ্গে দেখা করেন। সামনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় রাজ্য থেকে অন্তত এক বা দু’জন পূর্ণমন্ত্রী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভাল ফল করার নেপথ্যে অন্যতম কারিগর হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ শমীককে মন্ত্রিসভায় চান। শমীকের বক্তব্য, তিনি কর্মী। রাজ্য সভাপতি হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)