লালবাজারের পর এ বার বুলডোজ়ার নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে রাখল ভবানী ভবনও। জানিয়ে দেওয়া হল, বুলডোজ়ার নিয়ে কাউকে ভয় দেখানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। এর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে কিছু লোক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তাঁদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় ভোট-পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ উঠে এসেছে। এ অবস্থায় বুধবার বিকেলে রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানীভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে বসেন ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তিনি জানান, গত কয়েক দিনে কয়েক জায়গায় গোলমাল হয়েছে। মঙ্গলবারও হয়েছে। তবে বুধবার সকাল থেকে কোথাও কোনও গোলমালের ঘটনা ঘটেনি। সিদ্ধনাথ জানান, ভোট-পরবর্তী সময়ে মোট ২০০টি এফআইআর হয়েছে। তার ভিত্তিতে ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে প্রায় ১১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
তৃণমূলনেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টিও বুধবার ব্যাখ্যা করে দেন রাজ্যের পুলিশপ্রধান। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী মমতা এবং অভিষেকের যে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তা তাঁরা পাচ্ছেন। তবে এর বাইরেও অতিরিক্ত কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল তাঁদের জন্য। সেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান সিদ্ধনাথ।
আরও পড়ুন:
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর হয়েছে পুলিশ। রাজ্যবাসীকে আইন নিজেদের হাতে না তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশপ্রধান সিদ্ধনাথ। রাজ্যের সাধারণ জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে, সেটি থানায় জানান। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।” বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ ভয়ে থানায় গিয়ে এফআইআর করতে না পারলে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এফআইআর রুজু করবে, সেই আশ্বাসও দেন তিনি।
ভোট-পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও পুলিশকে পর্যাপ্ত সাহায্য করছে বলে জানান রাজ্য পুলিশের ডিজি। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী সব জায়গায় পর্যাপ্ত সাহায্য করছে। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানোর জন্য রাজ্যে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। রাজ্য স্তরে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য যৌথ কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। জেলা স্তরেও এমন যৌথ কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
১৩:৫৯
মোদীর বেঁধে দেওয়া সেই ধ্বনি উদ্যাপন করতে নতুন স্লোগান বাঁধল বিজেপি! নতুন গানে দিল প্রতিশ্রুতি পূরণ করার আশ্বাসও -
১৩:৩০
তৃণমূলের ‘পুঁজিতে’ থাবা! রাজ্যে ৪৫ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও বিজেপির ঝুলিতে, মেরুকরণই কারণ? -
০০:৩১
দিকে দিকে আক্রান্ত বাম-বিজেপি-তৃণমূল! খাস কলকাতায় চলল বুলডোজ়ার, বসিরহাটে জখম পুলিশ -
২৩:১৭
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের -
২১:৫৫
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত