E-Paper

তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশে, উদ্ধার ভারতীয়

পরিবার সূত্রে খবর, কাটিগড়া বিধানসভা এলাকার সীমান্ত-ঘেঁষা রাজতিলক গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই নো-ম্যান’স ল্যান্ডে ভারতের জমিতে চাষ করতে বেরিয়েছিলেন। এর পরে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০৮:১১

—প্রতীকী চিত্র।

অসমের মানকাচরে বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্য-রেখায় বসে থাকা দুই পরিবারের ৯ জনকে (যাঁদের বাড়ি ময়মনসিংহে বলে দাবি করা হচ্ছে) কোনও ভাবেই সে দেশে ঢুকতে দিচ্ছে না বিজিবি ও বাংলাদেশের গ্রামবাসীরা। কিন্তু অসমেরই কাছাড়ের কাটিগড়া সীমান্তে চাষের জমি থেকে এক ভারতীয় কৃষককে মারধর করে বাংলাদেশিরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। দীর্ঘ চেষ্টার পরে ৬০ বছরের সেই কৃষক রঞ্জিত দাসকে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।

পরিবার সূত্রে খবর, কাটিগড়া বিধানসভা এলাকার সীমান্ত-ঘেঁষা রাজতিলক গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই নো-ম্যান’স ল্যান্ডে ভারতের জমিতে চাষ করতে বেরিয়েছিলেন। এর পরে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। স্থানীয় ও পরিজনেরা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরে সন্দেহ করেন, বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা তাঁকে অপহরণ করে সীমান্তের ও-পারে নিয়ে গিয়েছে। স্থানীয়রা কাঁটাতার সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। কাটিগড়া থানার পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকেরা, বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ ও জাকারিয়া আহমেদ পান্না, সাংসদ পরিমল শুক্ল বৈদ্য ঘটনাস্থলে পৌঁছন। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল খবর দেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে। ডিজিপি হরমিত সিংহকে বিষয়টি তদারকের ভার দেন হিমন্ত। বিএসএফ ও বিজিবির দফায় দফায় বৈঠকের পরে রঞ্জিতকে রাতে বিএসএফের হাতে তুলে দেয় বিজিবি। তাঁর শরীরে কিছু আঘাত মিলেছে।

রঞ্জিত পরে সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা মঙ্গলবার ৩১ নম্বর বিওপি গেটের পাশে নো-ম্যান’স ল্যান্ডে ভারতের জমিতে চাষ করছিলেন। তখনই সুরমা নদী পার করে নৌকায় আসা বাংলাদেশিরা তাঁদের উপরে চড়াও হয়। বচসা ও ধস্তাধস্তির মধ্যে বাকিরা পালালেও রঞ্জিতকে মারধর করে নৌকায় তুলে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশিদের ভারতের জমিতে হানাদারি ও অপহরণের ঘটনা নিয়ে চিন্তিত বিএসএফ।

বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে রবিবার ভোরে মানকাচরের সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু-সহ ৯ জনকে বাংলাদেশের দিকে পাঠানো হয়। কিন্তু বিজিবি তাঁদের ঢুকতে দেয়নি। ওই ৯ জন তিন দিনের বেশি আটকে রয়েছেন শূন্য-রেখায়। বিজিবি জানিয়েছে, জামালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও কুড়িগ্রাম দিয়ে বারবার ভারত ‘পুশ ইন’ করতে চাইছে। এ জিনিস মানা হবে না। বাংলাদেশের তরফে পুশ ইন বন্ধে দিল্লিকে বহু চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সে দেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সীমান্তে বাংলাদেশের গ্রামবাসীরাও ভারতের দিকে ইট ছুড়ছেন। ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’-র অভিযোগ, ‘বাংলাদেশি’ বলে পাঠানো হচ্ছে মূলত ভারতীয় মুসলমানদের। বাংলাদেশের বক্তব্য, ভারতে কোনও বাংলাদেশি থেকে থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাঁদের ফেরত নিতে রাজি ঢাকা। ‘পুশ ইন’ মানা হবে না।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Assam Indian Citizen

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy