E-Paper

ভুয়ো সংঘর্ষের অভিযোগ উঠল মণিপুরে, নিশানায় যৌথ বাহিনী

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সন্দেহভাজন জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন লামখোহাও। কিন্তু পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিনা প্ররোচনায় ড্রোন থেকে বোমা ফেলেছিল শংকং গ্রামে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০৯:০৮

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ণিপুরে গত মঙ্গলবার থেকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে উখরুল, চূড়াচাঁদপুর, কাংপোকপি ও পশ্চিম ইম্ফলের কিছু অংশে যৌথ বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। সেই অভিযানের মধ্যে লামখোহাও (২৪) নামে এক কুকি গ্রামপ্রধানের ছেলের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সন্দেহভাজন জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন লামখোহাও। কিন্তু পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিনা প্ররোচনায় ড্রোন থেকে বোমা ফেলেছিল শংকং গ্রামে। প্রাণ বাঁচাতে লামখোহাও জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে কাছের একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে বাহিনী তাঁকে আটক করে। পরে ভুয়ো সংঘর্ষে তাঁকে মেরে জংলা পোশাক পরিয়ে জঙ্গি সাজানোর চেষ্টা হয়। সিআরপি-র দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গি-দমন অভিযান চালানো হয়েছিল। লামখোহাওয়ের কাছে অস্ত্র মিলেছে। যদিও গ্রামবাসীদের দাবি, লামখোহাও কোনও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্তই ছিলেন না। তিনি স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। তাঁর কাছে শুধুমাত্র চাল, ওষুধ এবং সাধারণ কাটারি ছিল। কুকি মহিলারা ঘটনার পরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছেন। জওয়ানদের বডি ক্যামেরার ফুটেজ, ফরেন্সিক প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে। কুকি ইনপি দাবি করে, নাগাদের গত ১৫ জুনের হামলায় আতঙ্কগ্রস্ত গ্রামবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার বদলে উল্টে তাঁদের উপরেই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তল্লাশি চালানোর সময়ে মহিলা, শিশু ও বয়স্কদের হয়রানি করা হয়েছে।

এ দিকে, নাগাদের আক্রমণে জখম তিন কুকি তরুণকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ইম্ফলের রিমস্ হাসপাতালে আনা হলেও, পরে অশান্তির জেরে কড়া নিরাপত্তায় ১৮-২০ বছর বয়সি ওই তিন জনকে কুকি এলাকা চূড়াচাঁদপুরের জেলা হাসপাতালে সরাতে হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক জন, পাওগৌলাল চঙ্গলৌই মোহনবাগানের যুব দলের ফুটবলার। তিন জনেরই চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ও ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা দেওয়া হয়। এর পরে দলে দলে মানুষ হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। রাইফেল হাতে ওই তিন জনের ছবি দেখিয়ে নাগা ও মেইতেইরা দাবি করেন, রিমস্ হাসপাতালে ‘কুকি সন্ত্রাসবাদীদের’ চিকিৎসা চালানো যাবে না। কুকিরা দাবি করেন, চিকিৎসা পাওয়াটা প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার। অশান্তি চলতে থাকায় শেষে অন্য রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তিন কুকিকে অন্য হাসপাতালে সরানো হয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Manipur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy