Advertisement
E-Paper

প্লাস্টিক খাচ্ছেন রোজ! কোন সাত জিনিস থেকে শরীরে লক্ষ লক্ষ মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকছে?

ভারতের খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা এফএসএসএআই জানিয়েছিল, নুন-চিনি ও কয়েক রকম মশলার প্যাকেটে পাওয়া গিয়েছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা বা ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’। হিসেব বলছে, প্রতি দিন গড়ে তিন কাপ চা খেলে ৭৫,০০০ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা চায়ের সঙ্গে ঢুকতে পারে শরীরে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২৮
কোন কোন জিনিসের সঙ্গে রোজ প্লাস্টিক ঢুকছে শরীরে?

কোন কোন জিনিসের সঙ্গে রোজ প্লাস্টিক ঢুকছে শরীরে? ছবি: ফ্রিপিক।

অফিসে এসেই এক কাপ চা রোজ খান নিশ্চয়ই। তা যদি কাচের কাপে খান, তা হলে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি প্লাস্টিক বা কাগজের কাপে খান তা হলেই বিপদ। গবেষণা বলছে, প্রতি দিন গড়ে তিন কাপ চা খেলে ৭৫,০০০ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা চায়ের সঙ্গে ঢুকে যায় শরীরে। তেমনই প্লাস্টিকের বোতল থেকে জল খেলে, জলের সঙ্গেই প্লাস্টিকের সূক্ষ্ম কণা ঢোকে শরীরে। রোজের ব্যবহারের এমন কিছু জিনিসপত্র আছে যা থেকে প্লাস্টিকের সূক্ষ্ম কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকে মিশে যায় রক্তে।

পানীয়ের বোতল

প্লাস্টিকের জলের বোতল থেকে কয়েক হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকতে পারে শরীরে। তবে শুধু প্লাস্টিকের জলের বোতল নয়, দোকান থেকে যে নরম পানীয়, বিয়ার, সোডা বা ওয়াইনের বোতল কেনা হয়, তার মধ্যে অগণিত গুঁড়ো প্লাস্টিক পাওয়া গিয়েছে। এগুলি শরীরে ঢুকেই রক্তে মিশে যায়। তার পর সোজা চলে যায় মস্তিষ্কে। ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট করতে শুরু করে। যার প্রভাব পড়ে শরীরের বাদবাকি অঙ্গগুলিতে।

Advertisement

টি-ব্যাগ

টি ব্যাগেও প্লাস্টিক? সব না হলেও অনেকগুলি ব্র্যান্ডের টি ব্যাগেই নাকি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আরও নানা রকম রাসায়নিকের খোঁজও পাওয়া গিয়েছে, যা মানবশরীরের জন্য বিপজ্জনক। কিছু টি ব্যাগ তৈরি হয় প্লাস্টিক দিয়েই। সাধারণত তিন ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়— পলিপ্রপেলিন, নাইলন-৬ ও সেলুলোজ়। প্লাস্টিকের টি ব্যাগ যখন গরম জলে ডোবানো হয়, তখন তার থেকে সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের কণা মিশে যায় জলেও।

নুন-চিনি থেকে

সমুদ্রেও প্লাস্টিকের আবর্জনা মিশছে। সমুদ্রের জল থেকে যে নুন তৈরি হচ্ছে তাতেও থেকে যাচ্ছে অণুপ্লাস্টিক। শুধু খোলা বাজারে নয়, অনলাইনেও যে নুন এবং চিনি পাওয়া যায়, সেগুলিতেও প্লাস্টিকের অস্তিত্ব রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সমীক্ষা জানাচ্ছে, চিনির চেয়েও নুনে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতির পরিমাণ বেশি। তাই বলে চিনি প্লাস্টিকমুক্ত নয়। চিনিতেও রয়েছে প্লাস্টিক কণার উপাদান।

প্লাস্টিকের পাত্র

ব্যবহারের সুবিধার জন্য কৌটো থেকে বাটি— সবই এখন প্লাস্টিকের। বিশেষত মাইক্রোওয়েভ অভেনে প্লাস্টিকের বাটিতে বা পাত্রে খাবার গরম করার প্রবণতা ভীষণ ক্ষতিকর। তা ছাড়া কালো প্লাস্টিকের কৌটোয় গরম খাবার দেওয়া হয় বহু রেস্তরাঁতেও। তা থেকেও শরীরে ঢোকে প্লাস্টিকের কণা।

প্রক্রিয়াজাত খাবার

প্রক্রিয়াজাত খাবারের চল গত কয়েক বছর ধরেই বেড়েছে। এতে নানা রকম রাসায়নিক, রংও মেশানোর অভিযোগও থাকে। প্লাস্টিকের মোড়কে থাকা এই সমস্ত খাবার একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। এতে পুষ্টিগুণের যেমন অভাব থাকে তেমনই এতে মিশে যায় অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিককণা।

নন-স্টিকের বাসন

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করেছেন, রান্নার সময়ে নন-স্টিক বাসনে একটি আঁচড় লাগলেই বিপদ। সেই আঁচড়ের জায়গা দিয়ে অনর্গল বেরোতে থাকবে হাজার হাজার প্লাস্টিক কণা ও তা মিশে যাবে খাবারে। নন-স্টিক প্যানে রান্নার সময় স্টিলের খুন্তি বা ধারালো কিছুর আঘাতে যদি একটি ছোট আঁচড় পড়ে, তবে সেখান থেকে বেরোবে ৯০০০ মাইক্রোপ্লাস্টিক। আর যদি কোনও ভাবে বাসনটি পুরনো হয়ে যায় এবং তার উপরের আস্তরণ উঠে যায়, তা হলে প্রতি বার ব্যবহারের সময়ে অন্ততপক্ষে ২০-২৩ লক্ষ বিষাক্ত প্লাস্টিকের কণা বেরিয়ে মিশে যাবে খাবারে।

প্লাস্টিকের প্যাকেজিং

প্লাস্টিকের প্যাকেট থেকেও কাঁচা আনাজ বা খাবারে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। নানা রকম মশলার প্যাকেটের ভিতরে প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গিয়েছে, প্লাস্টিকের প্যাকেটে দুধ বা চিজ়েও পাওয়া গিয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। প্লাস্টিকের প্যাকেটে পলিইথিলিন ও পলিপ্রপেলিন বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। এগুলি থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার যা ফুড প্যাকেজিংয়ের সময়ে কাজে লাগে। এগুলি থেকে সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের কণা বার হয়ে খাবারে মিশতে থাকে।

Microplastic
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy