Advertisement
E-Paper

তীব্র গরম ও দূষণে ঝুঁকি বাড়ে ব্যাক্টেরিয়াল মেনিনজাইটিসের, কী এই রোগ, সতর্ক থাকার উপায় কী?

মেনিনজাইটিসের ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাস শরীরে ঢোকে নাক বা শ্বাসনালির মধ্য দিয়ে। তার পরে তারা সেখানে বাসা বাঁধে এবং শেষমেশ গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কোন কোন উপসর্গ দেখলেই সতর্ক হবেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৬
What is Meningitis, what are the cause, symptoms and prevention tips

মেনিনজাইটিস কী, কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন? ছবি: ফ্রিপিক।

গরম পড়তেই একগুচ্ছ ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়ার দাপট বেড়েছে। ঘরে ঘরে জ্বর, পেটের সমস্যা। তার মধ্যে আরও এক রোগ নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। সেটি হল মেনিনজাইটিস। সাধারণ ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস দুয়ের সংক্রমণেই মেনিনজাইটিস হতে পারে। তবে গরমের সময়ে ব্যাক্টেরিয়াল মেনিনজাইটিসের প্রকোপ বাড়ে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিনের চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানাচ্ছেন, প্রচণ্ড গরমে এবং বাতাসে ভাসমান দূষিত কণার পরিমাণ যদি বেশি হয়, তা হলে নিসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস ব্যাক্টেরিয়ার উৎপাত বাড়ে। খুব সহজেই এটি মুখ ও শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে ঢুকে সটান মস্তিষ্কে গিয়ে বাসা বাঁধে। ফলে মাথাঘোরা, বমি ভাব, বিভ্রান্তি, তীব্র মাইগ্রেনে আক্রান্ত হতে পারে রোগী।

মেনিনজাইটিস কী?

মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য একটি স্বচ্ছ স্তর বা আবরণী থাকে, যাকে বলে মেনিনজেস। এটি যেমন বাইরের আঘাত থেকে মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করে, তেমনই আবার পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করে। মেনিনজেসে যদি কোনও কারণে সংক্রমণ বা প্রদাহ হয়, তখন তাকে বলা হয় মেনিনজাইটিস। ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক বা কোনও পরজীবী সংক্রমণে মেনিনজাইটিস হতে পারে। তবে এই রোগের অন্যতম কারণ হল নিসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস নামক এক ব্যাক্টেরিয়া। এর অনেকগুলি উপরূপ আছে। কোনও একটি মস্তিষ্কে ঢুকে পড়লে তখন প্রদাহ শুরু হয়। মেনিনজাইটিস মূলত স্নায়ঘটিত রোগ। ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাস মস্তিষ্কে ঢুকলে সবচেয়ে আগে মস্তিষ্কের কোষ ও স্নায়ুগুলিকেই আক্রমণ করে। খুব দ্রুত মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় হতে থাকে। ফলে একদিকে যেমন মাথাঘোরা, বমিভাব বা মাইগ্রেনের মতো লক্ষণ দেখা দিতে থাকে, তেমনই চিকিৎসা সঠিক সময়ে শুরু না হলে স্নায়বিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। প্রাণসংশয় হতে পারে রোগীর।

Advertisement

এই রোগের লক্ষণ কী?

রোগীর জ্বর হবে, সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ঘন ঘন বমি করতে পারেন, খিঁচুনি ধরতে পারে মাঝেমধ্যেই এবং ধীরে ধীরে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়বেন। এগুলি ছাড়াও আরও দু’-একটা লক্ষণ দেখা যায়— যেমন, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা শরীরে র‌্যাশ। মেনিনগোকক্কাল ব্যাক্টেরিয়ার কারণে ছোটদের মেজিনজাইটিস হতে দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে শিশুর ঘন ঘন জ্বর আসে, সারা শরীরে র‌্যাশ বেরিয়ে যাবে।

ট্রেকিং করতে গিয়ে কিংবা নোংরা জলে সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেক সময় অ্যামিবা, প্রোটোজ়োয়া বা ছত্রাকের কারণেও মেনিনজাইটিস হতে দেখা যায়।

মেনিনজাইটিস নির্ণয় করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি পরীক্ষা হল এমআরআই অথবা সিটি স্ক্যান। লাম্বার পাংচার পরীক্ষাও করানো হয় অনেক সময়ে। সঙ্গে আনুষঙ্গিক রক্তপরীক্ষা থাকেই। মেনিনজাইটিস হলে রোগীকে সাবধানে রাখতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো অ্যান্টিবায়োটিক ও ইঞ্জেকশন চলে। কিছু ক্ষেত্রে টানা ১০ থেকে ১৪ দিনও ইঞ্জেকশন দিতে হতে পারে রোগীকে। তা ছাড়া, এখন প্রচুর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও বেরিয়ে গিয়েছে, যার ফলে রোগীদের সুস্থ করে তোলা সম্ভব হচ্ছে। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে, কত তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় হচ্ছে, তার উপরে।

Meningitis Meningococcal Meningitis Brain Diseases Nausea
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy