—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার ‘অনুরোধ’ করেছিল আমেরিকাই। রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করলেন আমেরিকার শক্তি দফতরের সচিব ক্রিস রাইট। তাঁর দাবি, সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল চিনে যাচ্ছিল। কিন্তু ওই তেল নয়াদিল্লিকে ভারতের শোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তা রাইট বলেন, “ভারত গুরুত্বপূর্ণ শরিক। আমি এবং অর্থ সচিব (স্কট) বেসেন্ট ভারতীয়দের ফোন করেছিলাম। তাদের বললাম যে, বিপুল তেল চিনের শোধনাগারে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।” মার্কিন শক্তি সচিবের দাবি, চিনের শোধনাগারে যাওয়ার জন্য তেলবাহী জাহাজ বা ট্যাঙ্কারগুলি ছ’সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হত। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে ওই রুশ তেল নিয়ে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। তবে কোখায় এই তেলের ট্যাঙ্কারগুলি ছিল, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
দিন চারেক আগেই বিশ্বে অশোধিত তেলের বাজারকে চাঙ্গা করতে রুশ-নীতি নমনীয় করার ইঙ্গিত দিয়েছিল আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ‘ছাড়’ দেওয়া হয়েছে ভারতকে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্র উদ্ধৃত করে দাবি করেছিল যে, রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে অনুরোধ করেছিল ভারত। রবিবার অবশ্য রাইট বলেন, ভারতকে রুশ তেল কেনার বিষয়ে ‘অনুরোধ’ করা হয়েছিল।
কেন ভারতকে ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে রাইট জানান, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে যে তেল-সঙ্কট এবং মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা গিয়েছে, তা কাটাতেই এই পদক্ষেপ। তবে এর জেরে আমেরিকার রুশ নীতিতে কোনও বদল আসছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাইট বলেন, “এটা অল্প সময়ের জন্য একটি বাস্তববাদী পদক্ষেপ। রাশিয়া নিয়ে নীতিগত অবস্থান বদলাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, আমেরিকা মনে করে তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে রাশিয়া। তাই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কো থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি করায় ভারতের উপর চাপ তৈরি করে হোয়াইট হাউস। এই কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এই যুক্তিতে ভারতের উপর যে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা-ও প্রত্যাহার করে নেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। বরং ভারতের তরফে এই বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থই ভারতের বাণিজ্যনীতির প্রধান নির্ধারক। তেল কেনার ক্ষেত্রে একাধিক উৎস বজায় রাখা হবে। কোনও একটি দেশের কাছ থেকে তেল কেনার বাধ্যবাধকতা নেই নয়াদিল্লির।