US-Iran War

রাশিয়া, ইরানের তেল কেনার ক্ষেত্রে আর কোনও ছাড় নয় ভারত-সহ অন্য দেশগুলিকে! জানিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

গত ১২ মার্চ আমেরিকার রাজস্ব দফতর জানিয়েছিল, রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার সমুদ্রে ভাসমান থাকলে, সেই তেল কিনে নিতে পারবে ভারতের তেলশোধক সংস্থাগুলি। এই ছাড়ের মেয়াদ ছিল এক মাস।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২১

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাশিয়া এবং ইরানের তেল কেনার ক্ষেত্রে আর কোনও ছাড় পাবে না ভারত। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে তেল আমদানিকারী অন্য দেশগুলির উপরেও। বুধবার এই কথা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার রাজস্বসচিব স্কট বেসেন্ট জানান, তাঁরা আমেরিকা এবং ইরানের তেল কেনার ক্ষেত্রে যে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিলেন, তার মেয়াদ বৃদ্ধি করছেন না।

Advertisement

বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বেসেন্ট বলেন, “রাশিয়া এবং ইরানের তেল কেনার ছাড়পত্রের মেয়াদ আমরা বৃদ্ধি করছি না।”

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ আমেরিকার রাজস্ব দফতর জানিয়েছিল, রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার সমুদ্রে ভাসমান থাকলে, সেই তেল কিনে নিতে পারবে ভারতের তেলশোধক সংস্থাগুলি। পরে অন্য দেশগুলিকেও এই ছাড়ের আওতায় আনা হয়। তারও কিছু দিন পর একই ভাবে ইরানের তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়। মস্কোর তেল কেনার ক্ষেত্রে ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১১ এপ্রিল। আর ইরানের ক্ষেত্রে এই তারিখটা হল ১৯ এপ্রিল।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আমেরিকার কাছে এই ছাড়ের মেয়াদবৃদ্ধি করার আর্জি জানিয়েছিল ভারত-সহ এশিয়ার অন্য দেশগুলি। কিন্তু হোয়াইট হাউস ছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে রাজি হয়নি। মার্কিন প্রশাসনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জুড়ে যে জ্বালানি সঙ্কট এবং দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই এই পদক্ষেপ! হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, এখন যুদ্ধবিরতি বজায় থাকায় এই ছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন দেখছে না ট্রাম্প প্রশাসন।

তা ছাড়া আমেরিকার অধুনা বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যেরাও এই ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই ছাড় দিয়ে আদতে রাশিয়াকে মোটা টাকা মুনাফার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাজে লাগাবে বলেও দাবি করা হয়। মার্চে বেসেন্ট অবশ্য জানিয়েছিলেন, এই ছাড়ের কারণে রাশিয়া খুব বেশি লাভবান হবে না।

একাধিক রিপোর্টে পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মার্কিন ছাড়ে রাশিয়ার তেল কেনা বৃদ্ধি করেছিল ভারত। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার পরিমাণ কমবে কি না, তা এখনই স্পষ্ট নয়। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কো থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি করায় ভারতের উপর চাপ তৈরি করেছিল হোয়াইট হাউস। এই কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এই যুক্তিতে ভারতের উপর যে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা-ও প্রত্যাহার করে নেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। বরং ভারতের তরফে এই বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলা হয়, জাতীয় স্বার্থই ভারতের বাণিজ্যনীতির প্রধান নির্ধারক। তেল কেনার ক্ষেত্রে একাধিক উৎস বজায় রাখা হবে। কোনও একটি দেশের কাছ থেকে তেল কেনার বাধ্যবাধকতা নেই নয়াদিল্লির।

Advertisement
আরও পড়ুন