(বাঁ দিকে) রাজার মা উমা রঘুবংশী। রাজার স্ত্রী অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের যুবক রাজা রঘুবংশী খুনে অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রী সোনমকে মঙ্গলবার জামিন দিয়েছে মেঘালয়ের স্থানীয় আদালত। সেই খবর জানতে পেরেই রাগে, ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন রাজার মা উমা রঘুবংশী। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘‘আমি চাই সোনম সামনে এসে দাঁড়াক, ওকে নিজের হাতে খুন করব।’’
পুত্রবধূর জামিন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাজার মা। তিনি বলেন, ‘‘কেন ওকে ছাড়া হল? এত বড় অপরাধ করার পরেও ছাড় পেয়ে গেল? আমি সিবিআই তদন্ত চাই।’’ প্রসঙ্গত, আদালত জানিয়েছে, গ্রেফতারির সময় মেঘালয় পুলিশের কিছু প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে জামিন দেওয়া হয়েছে সোনমকে।
এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোনমকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশ যে গ্রেফতারি মেমো দিয়েছিল তাতে লেখা হয়েছিল ৪০৩ (১) ধারার কথা। উল্লেখ্য, ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (বিএনএস) ওই ধারার কোনও অস্তিত্বই নেই! ২০২৪ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) পরিবর্তে বিএনএস চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই আইনে ৪০৩ (১) ধারার কোনও উল্লেখ নেই। সেখানে খুনের মামলার ধারাটি ১০৩ (১)। মনে করা হচ্ছে, ওই মেমো যিনি লিখেছিলেন ভুলবশত তিনি ৪০৩ (১)-র বদলে ১০৩ (১) ধারা লিখে ফেলেন। ফলে এটিকে ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’ বলে উল্লেখ করে সোনমের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। তবে সোনমকে চারটি শর্তে জামিন দিয়েছে আদালত। সেগুলি হল— পালাতে পারবেন না অথবা সাক্ষীকে প্রভাবিত, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করবেন না। সময়মতো হাজিরা দিতে হবে আদালতে। আদালতের অনুমতি ছাড়া এলাকা ছাড়তে পারবেন না। ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত বন্ড দিতে হবে।
কিন্তু পুত্রবধূর জামিনে খুশি নয় রাজার পরিবার। তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। রাজার বাবা বলেন, ‘‘আইনের উপর ভরসা ছিল। কিন্তু আদালতের এই নির্দেশের পর বিশ্বাস উঠে গেল।’’ অন্য দিকে, রাজার ভাই বলেন, ‘‘এত দিন বিভিন্ন সিনেমায় শুনতাম, আইন অন্ধ। কিন্তু এখন বাস্তবে সেটা দেখতে পাচ্ছি।’’
প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে খুন হন মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের যুবক রাজা। তাঁকে খুনের অভিযোগ ওঠে স্ত্রী সোনম, তাঁর প্রেমিক রাজ-সহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে।