গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কাজ থেকে ফিরতে অনেকটা রাত হয়েছিল। কারখানা থেকে বেরিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করেন। সেই সময় রাস্তার পাশে এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাঁর কাছে সময় জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, সেই ব্যক্তি জোর করে টেনে নিয়ে দাঁড় করানো একটি বাসে তোলেন। সেখানে আগে থেকেই কয়েক জন ছিলেন। তার পরই শুরু হয় অত্যাচার। দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশকে এমনই জানিয়েছেন নির্যাতিতা।
তাঁর অভিযোগ, দু’ঘণ্টা ধরে তাঁর উপর অত্যাচার চালানো হয়। বাসটিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হচ্ছিল। তিনি চিৎকার করছিলেন। বার বার কাকুতি-মিনতিও করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই কাকুতি-মিনতিতে কোনও কাজ হয়নি। বরং তাঁকে মারধর করা হয়েছে। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অত্যাচার চালানোর পর নির্যাতিতাকে চলন্ত বাস থেকে ছুড়ে দেওয়া হয়। দিল্লির বুকে এই ঘটনা ২০১২ সালের ‘নির্ভয়া’র ঘটনার স্মৃতি শুধু উস্কে দেওয়া নয়, রাজধানীতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল। যদিও ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় বাসচালক এবং কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই মহিলার মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্টে ধর্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই স্লিপার বাসটিকে আটক করেছে। যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজও শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বেশ কয়েকটি দল গঠন করে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা মঙ্গলপুরী এলাকার একটি কারখানায় কাজ করেন। তাঁর স্বামী অসুস্থ। তিন সন্তান রয়েছে। গত ১২ মে দিল্লির রানিবাগ এলাকায় গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রসঙ্গত, দিল্লির এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৪ বছর আগে, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরের ঘটনা। বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে ফিরছিলেন ২৩ বছর বয়সি এক প্যারামেডিক্যাল ছাত্রী। দক্ষিণ দিল্লির মুনিরকা থেকে বাস ধরেছিলেন তাঁরা। সেই বাসেই তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিল নাবালকও। সেই ঘটনায় গোটা দেশ জুড়ে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ হয়। আট বছর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২০ সালে চার দোষীকে ফাঁসি দেওয়া হয়।