মেচেতার দাগ চিরতরে নির্মূল হতে পারে তিন রকম ফেশিয়ালে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মেচেতার দাগ সহজে যায় না। নাক, গাল, কপালে বা গলার কাছে কালচে দাগছোপ দেখতে মোটেই ভাল লাগে না। দাগবিহীন ঝকঝকে ত্বক সকলেই চান। এর জন্য অনেকেই সালোঁয় গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচও করেন। নায়িকাদের মতো কোমল ও মোলায়েম ত্বক পেতে ফেশিয়াল, স্ক্রাবিং, স্টিমিং ট্রিটমেন্ট, আরও কত কী করানো হয়! এত কিছুর পরেও মেচেতার দাগ সহজে নির্মূল হয় না। হরমোনের তারতম্য, রোদের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি কিংবা লিভারের সমস্যায় ত্বকে মেলানিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে দাগছোপ আরও গাঢ় হয়ে বসে যায়। তবে মেচেতার দাগও নির্মূল করা সম্ভব। এর জন্য জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
কোন কোন ফেশিয়াল করাবেন?
হাইড্রাফেশিয়াল
হাইড্রাফেশিয়াল।
সাধারণ ফেশিয়ালে হাতের তালুতে চাপ দিয়ে মুখে ধীরে ধীরে মালিশ করা হয়। কিন্তু হাইড্রা ফেশিয়ালে সবটাই হয় যন্ত্রের সাহায্যে। পদ্ধতি অনেকটা ‘ভ্যাকিউম ক্লিনার’-এর মতো। ত্বকের গভীর থেকে ধুলোময়লা টেনে বার করে আনা হয়। মূলত ‘ডিপ ক্লিনজ়িং’-এরই একটি ধরন হল হাইড্রা ফেশিয়াল। মেচেতার দাগ তো বটেই, রোদে পোড়া কালচে দাগ, ব্রণ-ফুস্কুড়ির সমস্যা দূর হতে পারে এই ফেশিয়াল করালে।
খরচ: সাধারণ হাইড্রাফেশিয়ালের প্রতি সেশনের খরচ ২৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে। ব্রাইডাল ফেশিয়াল করালে খরচ পড়তে পারে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা।
মেডিফেশিয়াল
মেডিফেশিয়াল
এলইডি থেরাপি মেডিফেশিয়ালের মধ্যেই পড়ে। এলইডি আলো খুব সহজে এবং অনেক কম সময়ে ত্বক মেরামত করতে পারে বলে মনে করেন চর্মরোগ চিকিৎসকেরা। সহজে এই থেরাপি করার জন্য এলইডি আলো দেওয়া মুখোশ বেরিয়ে গিয়েছে এখন। সেই মুখোশে নানা রঙের আলো লাগানো আছে। মুখে পরে সুইচ অন করলে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ত্বকে ঢুকবে এবং ত্বকের ক্ষত মেরামত করবে। আলোকরশ্মি ত্বকে ঢুকে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়াবে। ফলে ত্বকের মৃতকোষ দূর হবে। ত্বক অনেক বেশি সতেজ ও ঊজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
খরচ: সাধারণ গ্লো বা হাইড্রেটিং মেডিফেশিয়াল করালে প্রতি সেশনের খরচ পড়ে ২০০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে। অ্যান্টি-এজিং বা অ্যান্টি-পিগমেন্টেশন ফেশিয়াল করালে খরচ বেশি হবে। প্রতি সেশনে ৫০০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকা হতে পারে।
অক্সিজেন ফেশিয়াল
অক্সিজেন ফেশিয়াল
সাধারণ ফেশিয়ালের থেকে অক্সিজেন ফেশিয়াল করার প্রক্রিয়া অনেকটাই আলাদা। বিভিন্ন সালোঁ বা স্পা-এ অক্সিজেন ফেশিয়াল নানা ভাবে করা হয়। প্রথমে হয় এক্সফোলিয়েশন। ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর হওয়ার পরে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ত্বকের একদম গভীর স্তরে উচ্চ চাপে বিশুদ্ধ অক্সিজেন এবং তার সঙ্গে অ্যান্টি-পিগমেন্টেশন সিরাম প্রবেশ করানো হয়। অক্সিজেন কোষে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের কোষের পুনর্গঠন ঘটায়। ফলে দাগছোপ তো দূর হয়ই, ত্বক থেকে বার্ধক্যের ছাপও মুছে যায়। অক্সিজেন ফেশিয়াল ত্বককে আর্দ্রতা জোগায়, ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। এই ধরনের ফেশিয়ালে অক্সিজেনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং ত্বকের উপযোগী উপাদান ব্যবহার করা হয়। যার প্রভাবে ত্বকের জৌলুস ফিরে আসে।
খরচ: স্ট্যান্ডার্ড অক্সিজেন ফেশিয়ালের খরচ সেশন প্রতি ৩০০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকা। যদি অ্যাডভান্সড অক্সিজেন ফেশিয়াল করাতে হয় তা হলে খরচ পড়তে পারে সেশন প্রতি ৫০০০ টাকা থেকে ৯০০০ টাকা।